আমি কেন ও কীভাবে 'খৃষ্টান-কাফিরদের' দেশ বৃটেনের নাগরিক হলাম-০২



ড. আবুল কালাম আজাদ




আমি কেন ও কীভাবে 'খৃষ্টান-কাফিরদের' দেশ বৃটেনের নাগরিক হলাম

পর্বঃ ২

ডঃ আবুল কালাম আজাদ, লন্ডন

আমি তো একাকীত্ব ও ঘর-টানে ফজরের আগেই জেগে গেছি। অজু করে সালাতের জন্যে বসে আছি। তখনো (২০০০ সালে) মোবাইল ফোনের এতো প্রচলন শুরু হয়নি। তাই, বলা যায় দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। 

কিছুক্ষণ পর আব্দুর রহমান ভাই এসে আমার দরোজায় টোকা দিলেন। আমি দরোজা খুলে সালাতের জন্যে একদম প্রস্তুত অবস্থায় দেখে তিনি একটু অবাক হয়ে বললেন, কী? ঘুম ভালো হয়নি মনে হয়!! বুঝছি, ভাবীকে রেখে ঘুমাতে পারেননি। আমি বললাম, হ্যাঁ, আপনিও তো পারেন না মনে হয়। 

সেপ্টেম্বর মাস। একটু শীত শুরু হয়েছে। ফজরের জন্যে বের হয়ে দেখলাম সবুজ লকলকে ঘাসের ডগায় আদুরে শিশির জমে আছে। শীতল শিশিরের পরশ এড়িয়ে দুই মিনিট হেঁটে মসজিদে গেলাম। ওখানে আবার দেখা হলো কালকে রাতে যে যুবক আমাকে প্রথম রিসিভ করেছিলেন- কলীম। তিনি একজন ইন্জিনিয়ার। তার বাবাও একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নাইমুদ্দিন। তিনি মার্কফিল্ড কনফারেন্স সেন্টারের পরিচালক। আমাদের হোস্টেলেরও পরিচালক। কিন্তু দেখলে মনে হয় একজন আলিম। 

একজন বয়স্ক লোক ফজরের সালাত পড়ালেন। সালাতের পর আব্দুর রহমান ভাইয়ের কাছে জানলাম, তিনি হলেন আমাদের ইনস্টিটিউটের প্রধান বা পরিচালক। তিনি হলেন মিশরীয় অধ্যাপক ড. যগলুল আল- নাযযার। 

আমার খুবই ভালো লাগলো উনাকে পেয়ে। কারণ তিনি হলেন করআন ও বিজ্ঞান বিষয়ক পন্ডিত, গবেষক ও লেখক। 

সকাল হলো। রুমে এসে আবার একটু ঘুমাবার চেষ্টা করলাম। 

আব্দুর রহমান ভাই সকাল আটটার দিকে আবার এলেন। উনার ডরমেটরিতে এসে নাস্তা করলাম। এখানকার সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। 

অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশ। খোলামেলা সবুজে ঘেরা। একেবারেই নতুন ইনস্টিটিউট। আমরা মাত্র কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী। সবাইকে বেশ মিশুক মনে হলো। আর পরিবেশটা মালয়েশিয়া স্টাইলের ইসলামিক। তাঁর মানে হলো- এঁরা ইসলামিক, সবাই এখানে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে সালাত আদায় করেন। সব ধরনের মানুষ এখানে আছেন। সাদা কালো ধুসর- যদিও অধিকাংশই মুসলিম, কিন্তু সাদা ইংরেজও এখানে আছেন। এখানে এসে কাউকে গোমরা মুখো হয়ে কথা বলতে দেখলাম না। মানুষের মুখের একটা মিষ্টি হাসির দাম অনেক।

আমি অপেক্ষায় ছিলাম আমার এখানে আসার যিনি মূল মুরুব্বী- ড. মানাযির আহসান তাঁর সাথে দেখা করার। আব্দুর রহমান ভাই বললেন, মানাযির সাহেব খুবই শিক্ষিত লোক আবার খুবই ভদ্র। এই ধরনের লোকদেরকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। মানুষের জ্ঞান ও যোগ্যতা যতই থাকুক না কেন, তার মধ্যে ভদ্রতা না থাকলে তাঁকে মনে হয় একটা কষ্টকর গৃহাপালিত পশু না পারা যায় ফেলতে, না পারা যায় গিলতে। আমি তিনটা মুসলিম দেশে থাকলাম পড়াশুনা করলাম। কিতাব অনুযায়ী মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশী ভদ্র ও মার্জিত হওয়ার কথা। কিন্তু যে ভদ্রতা আমি মুসলিম দেশগুলোতে পাইনি সেটা পেলাম এই কাফিরের দেশে এসে কিছু মুসলিমদের মধ্যে।

আমি যখন বাংলাদেশ ছেড়ে ইংল্যান্ডে আসব তখন আমার অনেক কাছে মুরুব্বী অনুসাহিত করেছিলেন। যারা অনুসাহিত করেছিলেন তাদের কেউই এই দেশে আসেননি বা থাকেননি। তাদের ভয় ছিলো সব অন্যের কাছে শুনে বা পত্রিকা পড়ে অথবা টিভি-সিনেমা পর্দায় দেখে। আমারও কিছু ভয় যে ছিলো না তা নয়। যে কারণে আমি কখনোই ইংল্যান্ডে এসে পড়াশুনা করব বা এখানে থাকব তা ভাবিওনি। আমার ধারনা ছিলো- ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বিদেশেই থাকলাম। খুব প্রয়োজন না হলে বাংলাদেশ ছাড়ব না।

কিন্তু বাংলাদেশে আড়াই বছর চাকুরী করার পর বুঝলাম, এই দেশটা থেকে ইনসাফ ও মনুষ্যত্ববোধ অনেক কমে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সত্যের চর্চা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমি বাংলাদেশের সন্তান, কিন্তু এখানে সম্মানজনকভাবে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে গবেষণা করার পরিবেশ কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ইসলামের অনেক প্রসার হচ্ছে, কিন্তু নৈতিক ইসলামের ভিত্তি অনেক কমে যাচ্ছে। আমি যে মনোবল নিয়ে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসি, ৩০ মাস এই দেশে কাজ করে আমার সে আস্থা ও মনোবল অনেক হারিয়ে যায়।

আমাকে বাধ্য হয়েই উচ্চতর পড়াশুনা করার জন্যে আসতে হলো এই কাফেরদের দেশে; কোন মুসলমান দেশে যাওয়া হলো না। আমি অনেক ত্যাগ করে অনেক আশা নিয়ে এই দেশে এসেছি। তবে, এই দেশের নাগরিক হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার ছিলো না। আমি সব সময় চেয়েছিলাম, যে দেশে আমার জন্ম হয়েছে, আমি সে দেশেরই সেবা করব। আমি এই দেশের নাগরিকআমি সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েই এই দেশের নাগরিক হলেও আমার মনটা কিন্তু দেশের প্রতি টানে।

আমার প্রবল ইচ্ছা আছে, আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, তাহলে দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে একেবারেই বিনা বেতনে জ্ঞান ও গবেষণার খেদমত করব, ইনশাআল্লাহ।

আমি নাস্তা করে রুমে চলে এলাম। কুইন ও লুবাবকে দেশে রেখে এসেছি। অনেকদিন পর তাদের ছাড়াই নাস্তা খেলাম। ওরা যে আবার কবে এই দেশে আসতে পারবে, জানি না। তবে, আশা আছে, ইনশাআল্লাহ, তাঁরা আমার ডিপেন্ডেন্ট ভিসায় আসতে পারবে। ওদেরকে আনতে কী কী লাগবে সেটা আমি আব্দুর রহমান ভাইয়ের সাথে কথা বলে বুঝে নিলাম।

আমার আজকের কাজ হলো- ড. মানাযির স্যার এর সাথে দেখা করা এবং রেজিস্ট্রেশানের কাজ সম্পন্ন করা।

পিএইচডি মানে হলো একটু পাগলামী টাইপের লেখা পড়া- যার নেই কোন সময়সূচী, নেই কোন ছকবাধা পড়াশুনা, নেই কোন ছুটি-ছাটা। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। একটু পরই আমার সেই মহাযাত্রার সূচনা হবে। আব্দুর রহমান ভাই আমাকে নিয়ে যাবেন স্যারের অফিস ও ডিপার্টমেন্টে।

 

বেশ বড়সড় অফিস। বেশ এন্টিক টাইপের সোফা। চমকার গোছানো। পুরু কার্পেট বিছানো। আব্দুর রহমান ভাই আগে কলেন। আমি উনার পেছনে ঢুকে সালাম দিয়ে বললাম, আমি আবুল কালাম আজাদ। দেশ থেকে কাল রাতে এলাম। ড. মানাযির খুব মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে টেবিলের এপাশে এলেন। আমাকে টেনে নিয়ে আলিঙ্গন করলেন। বসেন, বলে আমাকে বসালেন। এরপর তিনি তাঁর চেয়ারে বসলেন। আমাকে পেয়ে উনি খুশী হয়েছেন বলেই মনে হলো। দেশ ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলেন। আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে জানতে চাইলেন। বললাম, আমি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে লাইব্রেরী সাইন্সে একটা ডিপ্লোমা করেছি এবং মালয়েশিয়াতেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে কাজ করেছি।

উনি বললেন, আমাদেরও তো লাইব্রেরীতে লোক লাগবে। আপনার অভিজ্ঞতা থাকলে আমাদের এখানেই কাজ করতে পারবেন। দেখি আমি আজমাতুল্লাহ সাহেবকে বলে দিচ্ছি। সুবহানাল্লাহ, আমি টিউশন ফিসের স্কলারশীপ পেয়েছি। কিন্তু আমার থাকা-খাওয়ার খরচ আমাকেই ম্যানেজ করতে হবে। আমার একখানা স্ত্রী আছেন এবং মালয়েশিয়ায় জন্ম একটা ছোট্ট ছেলে আছে। ওদেরকে তো আনতে হবে। ওদেরকে আনলে তো অনেক খরচ হবে। আসার আগে খুব চিন্তায় ছিলাম। পড়াশুনা করতে গেলে আবার চাকুরী করে ভাবে ম্যানেজ করব, সেটাও একটা ভাবনার বিষয় ছিলো। তবে, আগে থেকেই শুনে এসেছি, লন্ডনে এসে যারা ব্যরিষ্টারী পড়েছেন তারাও নাকি রেস্টুরেন্টের থালাবাটি ধুয়েছেন আর লেখাপড়া করেছেন। আর আমি যদি লাইব্রেরীতে কাজ করতে পারি সেটা তো আমার সৌভাগ্য। আমার কত বেতন হবে তা জিজ্ঞাসা করিনি। তবে স্যার জানতে চাইলেন, আমি কত ঘন্টা কাজ করার আইনি অনুমতি পাবো? আমি বললাম, আমার জানা মতে বিশ ঘন্টা কাজ করার অনুমতি আছে। ড. মানাযির স্যার খুব অন্তরিকতার সাথে আমার সার্বিক দিক নির্দেশনা দিলেন।

একটা দেশ থেকে আরেকটা দেশে নতুন এলে অনেক কিছু ভাবতে হয়, খোজ নিতে হয়, বুঝতে হয়। ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়ে। আমার একটা বদ অভ্যাস হলো, আমি টুকিটাকি বিষয় নিয়ে খুব বেশি ভাবি না বা চুলচেরা বিশ্লেষণও করি না। আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেই আর বলি, আল্লাহ, আমার বুদ্ধি কম। আমার জন্যে যেটা ভালো তুমি সেটা সহজ-সুন্দর ব্যবস্থা করে দাও। কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন, যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তাঁর জন্যে যথেষ্ট।

আমার সাথে আরো দুইজন ছাত্র বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। তাদের সবার আগেই আমার লাইব্রেরীতে চাকুরী হয়ে যাওয়াতে আমি আমার কম বুদ্ধিরই বরকত পেলাম। ওরা তো আমার এই সুযোগে হতবাক এবং স্বভাবতই কিছুটা ঈর্ষান্বিত।   

আমি প্রতিদিন বিকাল চারটে থেকে লাইব্রেরীতে কাজ শুরু করি। আর রাত সাড়ে আটটার দিকে বন্ধ করি। খুবই স্বচ্ছন্দময় কাজ। আর লাইব্রেরীর প্রতি আমার সহজাত একটা প্রীতি-ভালোবাসা ছিলো। আল্লাহকে এই কাজের জন্যে অনেক শুকরিয়া জানাই। এসেই এমন একটা কাজ পাওয়া ছিলো জীবনের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট।

বউ নেই। একা একা হোস্টেলে থাকি। নতুন দেশ। নতুন জায়গায় পরিচিত হচ্ছি। এই দেশটা অনেক ভালো লাগছে। তবে, এখানে স্থায়ীভাবে থাকব, এই চিন্তা করিনি। তবে, লাইব্রেরীর কাজের পাশাপাশি আরো কোন খন্ডকালীন কাজ পাওয়া যায় কি-না তা ভাবছি চেষ্টাও করছি।

একদিন হোস্টেলের কমনরুমে বসে আছি। এমন সময় বুকশপের ম্যানেজার জনাব আনওয়ার কারা একটা জব বিজ্ঞাপন এনে দিলেন। লন্ডনের একটা ইসলামী স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের পদ। জনাব কারা বললেন, আপনি এই পদের যোগ্য বলে মনে করি। আপনি বললে আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলি। আমি খুব আগ্রহী ছিলাম না। দুইটা কারণে, একটা কারণ হলো- আমি জানি, একটা পিএইচডি গবেষক হিসাবে পরিমাণ সময় দিতে হয় এবং একটা স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের দায়-দায়িত্ব কতটুকু। আসলে এই দুটো কাজ একসাথে চলতে পারে না, অন্ততপক্ষে এই দেশে। আমাকে বেশ কয়েকজন শিক্ষক পিএইচডি করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আমাকে ভীষ ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। যেমন- এই দেশে পিএইচডি থেকে ঝরে যাওয়ার সংখ্যা শতকরা পঞ্চাশের বেশী। পিএইচডি করতে গিয়ে কতজনের বিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছে। কারণ ছয়-সাত বছরেও শেষ হচ্ছে না। ড. আতাউল্লাহ সিদ্দিকী বললেন- পিএইচডি মানে জানো? বললামঃ স্যার, আপনি বলেন। তিনি বাকা হাসি দিয়ে বলেন- পিএইচডি মানে হলো পারমানেন্ট হেড ডাউন। আমি ভালোভাবেই বুঝেছি যে এই দেশে পিএইচডি করতে গেলে মাথার চুল থাকবে না, হেড ডাউন না হলেও। এমন কথাই বলেছিলেন, আমার দ্বিতীয় সুপারভাইজর বলেছিলেন, তুমি কি বিবাহিত? বলেছিলাম- হ্যাঁ এবং একটি ছেলে রয়েছে। উনি আমার দিকে একটু অপলক তাকিয়ে বলেছিলেন, তুমি ভাগ্যবান। কারণ আমি এখন বিবাহিত কোন ছেলে বা মেয়েকে আমার আন্ডারে পিএইচডি করতে নেই না। কারণ এঁরা অধিকাংশই ঝরে পড়ে, কিন্তু দোষ হয় সুপারভাইজরের। ফলে, বুঝতেই পারছেন- পিএইচডি করতে গিয়ে আমি কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়া সম্ভব নয়। তবুও জনাব কারাকে বললাম, ঠিক আছে, আপনি উনাদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন। আমার সিভি দিলাম। উনারা আমাকে লন্ডনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। ইন্টারভিউ দিলাম। ক্লাস নিলাম। পরে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হলো, আমার পক্ষে প্রিন্সিপ্যাল হওয়া সম্ভব নয়। এরমধ্যে, আমি একটা এজেন্সির মাধ্যমে এই দেশের সরকারী স্কুল কলেজগুলোতে সাপ্লাই টিচার হিসাবে চাকুরী পাই। এটা ছিলো খুবই ফ্লেক্সিবল চাকুরী। আমি কোন কোন দিন কাজ করতে পারব, সেটা অনলাইনে বুকিং দিলে এজেন্সি কাজ পেলে আমাকে বিস্তারিত তথ্য দিত। আমি খুজে সেই স্কুলে বা কলেজে গিয়ে পড়াতাম। সব সাবজেক্টই পড়াতে হতো। আমাকে দৈনিক কাজের ভিত্তিতেই বেতন দেওয়া হত। আমার দুই দিনের বেতন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা মাসের বেতনের চেয়েও বেশী হত। আমাকে এই এজেন্সি প্রস্তাব দেয়, আমি যেন তাদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করি তবে, পাঁচ বছর তাদের সাথেই থাকতে হবে। আমি বললাম, দুঃখিত, আমি পিএইচডি শেষ করে দেশেই ফিরে যাব। পাঁ বছরের কমিটমেন্ট দেওয়া সম্ভব নয়। আমি লেস্টার শহরের এই ভালো স্থায়ী চাকুরী ছেড়ে খুব অল্প বেতনে এই মুসলিম স্কুলের সাধারণ খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে যোগ দেই। এখানে একটা বিশাল প্রতিষ্ঠান করব বলেই স্বপ্ন ছিলো। তবুও ইচ্ছা ছিলো ২০১০ সালের মধ্যেই এই দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাব। বাংলাদেশে গিয়ে কোথায় করব তাঁর সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা ছি না। তবে, দেশে গিয়ে বিশালাকারে একটা শিক্ষা-আন্দোলন শুরু করব, এটাই ছি সিদ্ধান্ত। কিন্তু অনেকগুলো কারণে আমি আমার এই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারিনি। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কিছু ধারাক্রম এখানেই পেতে পারেন, আস্তে আস্তে। আমার কিছু কথা অস্পষ্ট থাকবে, আপনাকে বুঝে নিতে হবে।

 

চলবে.........

 


মাসিক দাওয়াহ বৃটেন দেশ নাগরিক