করোনায় বিচ্ছিন্ন দুনিয়া : আমাদের জন্য বার্তা কী?



ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক




করোনায় বিচ্ছিন্ন দুনিয়া : আমাদের জন্য বার্তা কী?
করোনা ভাইরাসের কালো থাবায় গোটা বিশ্ব এখন স্থবির। সদা সরব দুনিয়া এখন নিরব। সবাই স্তম্ভিত! কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ছোট্ট একটা ভাইরাসের সামনে মানুষের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ আমাদের অনেক বড় বার্তা দিয়ে গেল। বার্তাটি হল, আমরা বড় অসহায়! আমাদের কোন শক্তি নেই। আমরা দূর্বল। আল্লাহর কৃপা ছাড়া আমাদের বাঁচার কোন উপায় নেই।  
দুনিয়ার মোড়লরা সবাই অসহায়। এত এত বোমা-কামান, পারমানবিক অস্ত্র, রকেট, বিমান, ড্রোন আর শত শত প্রযুক্তি সব কিছুই এখন ছোট্ট একটি ভাইরাসের কাছে কাবু। ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিজেকে অবরুদ্ধ রাখতে রাখতে এখন প্রতিটি ভূখন্ড অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যেসব বিমান বন্দরে প্রতি মিনিটে মিনিটে বিমান উঠা-নামা করত সেসব বিমান বন্দরে আর বিমান উড়ছে না। যেসব শপিং মল, সিনেমা হল, পার্ক ইত্যাদিতে মানুষ গিজ গিজ করত সেসব জায়গা এখন জন-মানব শুন্য বিরাণ ভূমি। আহ! কেউ কাউকে চিনছে না। অসুস্থ মাকে স্পর্শ করছে না সন্তান। স্ত্রীর পাশে যাচ্ছে না স্বামী। সন্তানকে কাছে টানছে না মা। কী এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। 
যাইহোক, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস আমাদের ওপর বড় ধরনের বালা। আমাদের পাপের কারণে আল্লাহ তায়ালা হয়ত এই বালা পাঠাতে পারেন। বিশ্বব্যাপী কত জঘন্য জঘন্য পাপ হচ্ছে। মানুষ হত্যা কত সহজ হয়ে গেছে। যেনা-ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। চারদিকে শুধু পাপ আর পাপ। 
করোনা থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ফিরতে হবে। সকল প্রকার পাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে তাওবা ইস্তিগফার করতে হবে। যে আল্লাহর ইশারা ছাড়া দুনিয়ার কোন কিছুই নড়ে না সেই একমাত্র আল্লাহর কাছেই আমাদেরকে বলতে হবে, ‘হে আল্লাহ! আমরা অন্যায় করেছি, আমরা পাপ করেছি, তুমি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না কর তাহলে আমাদের রক্ষা করার আর কেউ নেই’। 
মহানবী (সা.) এর জীবনাদর্শের মধ্যে আমাদের কল্যাণ আছে। নবী (সা.) আমাদেরকে সব সময় পবিত্র থাকতে বলেছেন। পবিত্র থাকার অন্যতম মাধ্যম হলো অজু ও গোছল। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে ডাক্তারগণ বার বার হাত ধুয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে বলছেন। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকাকে ইসলাম ঈমানের অংশ বলেছে। নবী (সা.) সকাল সন্ধ্যা অনেকগুলি দুয়া পাঠ করতেন এবং আমাদেরকেও তা পাঠ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। সেইসব দুয়ার মধ্যে তিনি দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়ার কথা বলেছেন। আমাদেরকে রাসূলের সেখানো দুয়াগুলি বেশি করে পাঠ করতে হবে। রাসূল (সা.) আমাদের কিছু খাদ্যাভ্যাস বাতলে দিয়েছেন। আমাদেরকে সেগুলোও মেনে চলা উচিত। তিনি হালাল খাদ্য পরিমিতভাবে খেতে বলেছেন। দৈনিক সাতটি খেজুর, কালোজিরা, মধুসহ যেসব খাবারের কথা তিনি বলেছেন সেগুলোকে আমরা দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখতে পারি। 
সর্বোপরি বিপদে আপদে সবসময় আমাদেরকে আল্লাহর কাছেই ধর্না দিতে হবে। তাঁর কাছেই মুক্তি চাইতে হবে। তিনি ছাড়া আমাদের কেউ নেই। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তিনি আমাদের মরণ দাতা। বিপদকালীন হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে দুনিয়াবী চিকিৎসা এবং সরকারী নির্দেশনা অনুসরণ করাও আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সকল ধরনের বালা মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমীন। 

 
 


মাসিক দাওয়াহ করোনা ভাইরাস বার্তা