কুরআন সুন্নাহর আলোকে করোনা ভাইরাস : বাঁচতে হলে করণীয়



ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক




কুরআন সুন্নাহর আলোকে করোনা ভাইরাস : বাঁচতে হলে করণীয়
ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক
 চেয়ারম্যান, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আইআইইউসি 

 

ভূমিকা: 
মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে গোটা বিশ্ব এখন কাঁপছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৬০ টি দেশের দেড় লাখ মানুষ। ইতোমধ্যে প্রায় সাত হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। 
চীনের উহান প্রদেশে সর্ব প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও কয়েকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 
করোনা ভাইরাসের মত মরণঘাতি ব্যাধি নতুন কিছু নয়। পুরাতন যুগ থেকে বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে আসছে। নবী (সা.) এর যমানায়ও এই ধরনের মহামারির ঘটেছে। 
ইসলাম সার্বজনীন জীবন বিধান। ইসলাম কর্তৃক প্রদর্শিত জীবন বিধি মেনে চললে এই ধরনের মহামারি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। 
করোনা ভাইরাস কী:
করোনা ভাইরাস বলতে এক গোত্রের অনেকগুলি ভাইরাসকে বোঝায়, যা মূলত প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। বার্ড ফ্লু তথা সার্স ভাইরাসও এই গোত্রের। হিউম্যান করোনা ভাইরাস এক ধরনের জুনোটিক রোগ এবং এই সংক্রমণটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু, এখনও অবধি বিজ্ঞানীরা প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাস সনাক্ত করেছেন, যা মানুষকে প্রভাবিত করে এবং হালকা থেকে মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে। হিউম্যান করোনা ভাইরাসের প্রথম খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ১৯৬০ সালে একজন রোগীর মধ্যে, যিনি সর্দিতে ভুগছিলেন। করোনা ভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে 'করোনা'।
করোনা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়:
হিউম্যান করোনা ভাইরাস সাধারণত একজন ব্যক্তির শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে। শ্বাসনালীতে সংক্রমিত তরল কাশি বা হাঁচির সময় এক ব্যক্তির থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে চলে যায়। এছাড়াও, যদি সংক্রামিত ব্যক্তি মুখ না ঢেকে খোলা বাতাসে হাঁচি বা কাশি দেয়, তাহলে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যান্য কারণ হল, সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, সংক্রামিত কোনও বস্তুর সাথে নাক বা মুখ একসঙ্গে স্পর্শ করা এবং বিরল ক্ষেত্রে, রোগীর মলমূত্র স্পর্শ করা।
করোনায় আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ:
হিউম্যান করোনা ভাইরাসের লক্ষণ
NL63 এবং 229E, HKU1 এবং OC43-এর কারণে ফ্লু-এর মতো লক্ষণ দেখা দেয় যা হালকা থেকে মাঝারি আকার ধারণ করে। অন্যদিকে, মার্স এবং সার্স মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে। এর পূর্ববর্তী লক্ষণগুলি হল - ক) সর্দি খ) গলা ব্যথা গ) কাশি ঘ) মাথা ব্যাথা ঙ) জ্বর চ) হাঁচি ছ) অবসাদ জ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
করোনা ভাইরাস : ইসলামী দৃষ্টিকোণ
দুনিয়ার সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি। কল্যাণকর অকল্যাণকর সকল বস্তু আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক সৃষ্টির পেছনে কোনো না কোনো হিকমত রয়েছে। যা আমাদের জন্য অকল্যাণকর তা হয়ত অন্য কিছুর জন্য কল্যাণকর। পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সব কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের জন্য যা অকল্যাণকর তার অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) আমাদের জন্য যে নির্দেশনা (হালাল হারামের বিধান) দিয়েছেন তা যদি কেউ মেনে চলেন তাহলে তিনি বিভিন্ন অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য নিয়ামত। কেউ অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়ে আমাদেরকে বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, 
أن الله جعل لكل داء دواء، فتداوا
অর্থাৎ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক রোগের ঔষধ সৃষ্টি করেছেন; অতএব তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর”। 
নিচে কুরআন সুন্নাহর আলোকে করোনাসহ মরণব্যাধি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ক. মহামারী বনী আদমের পাপের ফসল:
মানুষ যখন বাড়াবাড়ির চরম পর্যায়ে চলে যায়। তারা যখন আল্লাহর বিধানকে বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শন করে ব্যাপক পাপাচারে লিপ্ত হয় তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি স্বরুপ আযাব ও গযব আসে। এ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
অর্থাৎ-“মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সাগরে বিপর্যয়  ছড়িয়ে পড়েছে; ফলে তিনি তাদেরকে তাদের কোন কোন কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। (সূরা আর-রূম:৪১)।
আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ 
অর্থাৎ-“তোমাদেরকে যেসব বিপদ আপদ স্পর্শ করে, সেগুলো তোমাদেরই কৃতকর্মের কারণে। অনেক গোনাহ তো আল্লাহ ক্ষমাই করে দেন”। (সূরা আশ-শুরা:৩০)। 
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারি। আদ, সামুদ, লুত সম্প্রদায়কে আল্লাহ তায়ালা ধ্বংস করেছেন তাদের সীমা ছাড়ানো পাপাচারের কারণে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
"وما انتشرت الفاحشة في قوم حتى يعلنوا بها إلا عمتهم الأوجاع والطواعين التي لم تكن في أسلافهم"
অর্থাৎ- “যখন কোন সমাজে ব্যাপকভাবে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেই সমাজে ব্যাপকভাবে মহামারি দেখা দেয় যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ: ১৩৩২)। 
বর্তমান সময়ে চীনারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কিছু কাজ করেছে যা সত্যিকারে সীমালংঘন। তারা আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকে ডুপ্লিকেট করে সমাজে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তারা ডিম, বাধাকপি, চাল প্লাস্টিক দিয়ে এমনভাবে তৈরি করেছে যা দেখলে মনে হবে সত্যি। মানুষ এগুলো খেয়ে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা নারী-পুরুষের যৌনাঙ্গ পর্যন্ত বানিয়েছে। সেক্সডল নামে এক ধরনের পুতুল তৈরি করে পুরুষদের সামনে যেনা-ব্যভিচারের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এভাবে অসংখ্য পাপকাজ তারা করেছে যা যেকোনো বিবেচনায় অন্যায় ও সীমালংঘন। চীনে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়ত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের সংকেত। 
খ. মহামারী মুমিনের জন্য রহমত স্বরুপ:
فعن عائشة -رضي الله تعالى عنها- قالت: سألتُ رسول الله ﷺ عن الطاعون فأخبرني أنه: عذاب يبعثه الله على من يشاء، وأن الله جعله رحمة للمؤمنين، ليس من أحدٍ يقعُ الطاعونُ فيمكث في بلده صابراً محتسباً، يعلم أنه لا يصيبه إلا ما كتب الله له إلا كان له مثل أجر شهيد[১]، رواه البخاري.

গ. মহামারী আমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরুপ:
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
ঘ. মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে শহীদী মৃত্যু:
ঙ. মহামারী থেকে আত্মরক্ষার বিধান:
إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا


ইসলামের আলোকে করোনাসহ মহামারী থেকে বাঁচার উপায়:
প্রথমত: আল্লাহর আনুগত্য: 
আমাদেরকে এই ধরনের গযব থেকে বাঁচতে হলে আল্লাহর বিধান পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। হালাল হারামের বিধান অনুসরণ করতে হবে। সাপ, বিচ্ছু, শুকুরসহ হারাম পশু-পাখির খাওয়া, মদ পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বলা হয়ে থাকে চীনের বনরুই থেকে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। বনরুই হচ্ছে সবচেয়ে বিশ্রি একটি প্রাণী। দেখতে সাপের মত। চীনারা এই প্রাণীর গোশত খুব মজা করে খায়। আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মধ্যে অনিষ্টতা আছে। অতএব তাকে যে হালাল করতে যাবে সে ক্ষতির মধ্যে পতিত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। 
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর নিকট দুয়া করা: 
মুসলিম হিসেবে আমরা এই বিশ্বাস করি যে, সকল কল্যাণ এবং অকল্যাণের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালার অনুমতি ছাড়া কোনো বালা মুছিবত বান্দাকে স্পর্শ করতে পারে না। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন:
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
অর্থাৎ- “কোন মুসিবতই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসেনা। যে আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে আল্লাহ তার অন্তরকে প্রশান্ত রাখেন। আর আল্লাহই সব কিছু সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত”। (সূরা আত-তাগাবুন: ১১)। 
অতএব মুমিন হিসেবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে বিপদ আপদে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া। আল্লাহর কাছে আমাদের যত আবেদন নিবেদন পেশ করতে হবে। আল্লাহ ছাড়া আমাদের রক্ষা করার কেউ নেই। আল্লাহই আমাদের একমাত্র হেফাজতকারী। 
সকল প্রকার বালা-মুসিবত ও রোগব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বেশ কিছু দুয়া ও জিকির শিখিয়েছেন। আমরা সকাল সন্ধ্যা ও দিনের বিভিন্ন সময়ে এগুলো পাঠ করতে পারি। 
এক: 
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئْ الْأَسْقَامِ

উচ্চারণ: আল্লাহুমা ইন্নী 'আঊযুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামি ওয়া মিন সায়্যিইল আসক্বামী। (আবূ দাঊদ, হাদিস নং ১৫৫৪)। 
অর্থাৎ- “হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ধবল, পাগলামি, কুষ্ঠ ও সকল ধরনের খারাপ রোগ হতে পানাহ চাই” 
দুই:
اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي مُنْكَرَاتِ اَلْأَخْلَاقِ، وَالْأَهْوَاءِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَدْوَاءِ
আল্লাহুম্মা জান্নিবনী মুনকারাতিল আখলাকি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়াল আ'মালি ওয়াল আদওয়া-ই। (বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ১৪৯৭)
অর্থাৎ- “হে আল্লাহ আমাকে বদ চরিত্র, কু-মন্ত্রণা, খারাপ কর্ম এবং ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখুন”। 
তিন: সকাল-সন্ধায় ৩ বার নিচের দুয়াটি পড়া:  
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা'আসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামায়ী ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম। (তিরমিজী, হাদিস নং ৩৩৮৮; আবূ দাঊদ, হাদিস নং ১৫৫৪)
অর্থাৎ: আল্লাহর নামে শুরু করছি; যে নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোন কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সব শুনেন ও জানেন। 
চার: 
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৭৭৩)।
অর্থাৎ: “আমি আল্লাহ তায়ালার পরিপূর্ণ কালেমার (অসিলা) মাধ্যমে সৃষ্টি জগতের সকল অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাই”।
 পাঁচ: 
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন যাওয়ালি নি’মাতিকা, ওয়া তাহাউউলি ‘আফিয়াতিকা, ওয়া ফুজা’আতি নিক্বমাতিকা, ওয়া জামি’ই সাখাতিকা। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৩৯)।
অর্থাৎ- “হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট নেয়ামত ও সুস্থতা চলে যাওয়া এবং হটাৎ প্রতিশোধ ও সকল প্রকার ক্রোধ থেকে পানাহ চাই”।

ছয়: 
اللهم إني أعوذ بك جَهْدِ البَلاَءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ القَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন জাহদিল বালাই ওয়া দারকিল শাক্বাই ওয়া ছুইল ক্বাদাই ওয়া শামাতাতিল আ‘দাই (সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৬১৬)। 
অর্থাৎ- “হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট কঠিন বালা, দুর্ভাগ্য ও শত্রুদের বিদ্বেষ থেকে পানাহ চাই”। 
সাত:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ। (আবূ দাঊদ, হাদিস নং ৫০৭৪)। 
অর্থাৎ- “হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট দুনিয়া আখিরাতের নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি”।
এছাড়াও নিয়মিত প্রত্যেক নামাজের পর সূরা ফালাক্ব, নাস ও আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা। হাদিসে এসেছে, কেউ যদি সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও নাস পাঠ করে তাহলে তাকে কোন কিছু ক্ষতি করতে পারে না।  
তৃতীয়ত: খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করা: 
মহামারী থেকে বাঁচতে আমরা খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারি। নবী করীম (সা) আমাদেরকে পেট পুরে খেতে নিষেধ করেছেন। পরিমিত খাদ্যাভ্যাস আমাদেরকে সুস্থ রাখতে পারে। নবী (সা.) বলেন: 
্রمَا مَلَأَ ابْنُ آدَمَ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ، حَسْبُ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ، فَثُلُثُ طَعَامٍ، وَثُلُثُ شَرَابٍ، وَثُلُثٌ لِنَفْسِهِগ্ধ
অর্থাৎ- “বণী আদম পেটকে অনিষ্ট দিয়ে পুরে ফেলছে; অথচ তাঁর সুস্বাস্থ্যের জন্য অল্প পরিমাণ খাদ্যই যথেষ্ট। যদি তার একান্তই খেতে হয় সে যেন পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খায়, আরেক ভাগ পানি পান করে, আরেক ভাগ নিঃস্বাস ত্যাগের জন্য রাখে”। (মসনদে আহমাদ, ১৭১৮৬)। 
ক. আজওয়া খেজুর খাওয়া: 
আমরা নিরোগ এবং মহামারী থেকে বাঁচতে দৈনিক সাতটি করে খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করতে পারি। নবী করীম (সা.) বলেন, 
مَنْ تَصَبَّحَ بِسَبْعِ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً لَمْ يَضُرَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ سُمٌّ وَلَا سِحْرٌ
অর্থাৎ- “যে ব্যক্তি সকালে উঠে আজওয়া খেজুর (মদীনার খেজুর) খাবে তাকে ঐদিন কোন বিষ কিংবা যাদু ক্ষতি করতে পারবে না”। (মুসলিম, ২০৪০)।  
খ. যম যমের পানি পান করা: 
মহামারী থেকে বাঁচতে আমরা যমযমের পানি পান করতে পারি। যমযমের পানির মধ্যে রয়েছে জীবনী শক্তি ও সকল রোগের চিকিৎসা। নবী (সা.) বলেন, 
مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ
অর্থাৎ- “যমযমের পানি যে নিয়তে পান করবে সেই নিয়তই পূরণ হবে” 
গ. কালোজিরা: কালোজিরা সহজলভ্য খাদ্য। কালোজিরা মৃত্যু ছাড়া সকল রোগ উপশম করতে পারে। নবী (সা.) বলেন
إِنَّ فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا السَّامَগ্ধ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا السَّامُ؟ فَقَالَ: ্রالْمَوْتُগ্ধ
অর্থাৎ- “নিশ্চয়ই কালোজিরার মধ্যে রয়েছে সকল প্রকার রোগের শেফা শুধু সাম ছাড়া। নবীজীকে প্রশ্ন করা হলো: সাম কী? তিনি বললেন, মৃত্যু”। (মুসলিম, ২২১৫)।
চতুর্থত: আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ না করা: করোনা যে এলাকায় আক্রমণ করেছে সে এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। এতে মহামারী অন্য এলাকায় ছড়িয়ে যেতে পারে। নবী (সা.) এ বিষয়ে বলেন,
إِذَا سَمِعْتُمْ بِالطَّاعُونِ بِأَرْضٍ فَلاَ تَدْخُلُوهَا، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا مِنْهَا
অর্থাৎ- “যদি তোমরা কোন এলাকায় মাহামারীর খবর পাও তাহলে সে এলাকায় তোমরা প্রবেশ করো না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত এলাকায় থাক তাহলে সেখান থেকে অন্য এলাকায় যেয়ো না” (বুখারি: ৫৭২৮)। 
পঞ্চমত: ধৈর্য্য অবলম্বন করা:
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ، صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
ষষ্ঠত: পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা: 
من بركة الطعام الوضوء قبله
সপ্তমত: তাওবা করা: ওমর রা বলেন, পাপ ছাড়া বালা আসে না, তাওবা ছাড়া বালা যায় না। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) দিনে শতাধিকবার তাওবা ইস্তিগফার করতেন। তিনি আমাদেরকেও বার বার তাওবা ইস্তিগফার করতে বলেছেন। 
এই মহা বিপদের সময় আমরা সাইয়েদুল ইস্তিগফার পড়তে পারি। হাদিসে এসেছে এটি পড়ে যদি কেউ মারা যায় তাহলে তিনি জান্নাতে যাবেন। ইস্তিগফারটি হল:
اللهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي، وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِالنِّعْمَةِ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ


মাসিক দাওয়াহ করোনা ভাইরাস কুরআন সুন্নাহ বাঁচার উপায়