স্রষ্টার অস্তিত্ব নিরুপণে সৃষ্টির বিশ্লেষণ: সবুজ গাছে আগুন উৎপাদন

এমডি ডেস্ক




স্রষ্টার অস্তিত্ব নিরুপণে সৃষ্টির বিশ্লেষণ:সবুজ গাছে আগুন উৎপাদন

. মোহাম্মদ আলী প্রফেসর . মোহাম্মদ আলী আজাদী

১।সহযোগী অধ্যাপক (সাবেক), IFESCU ২। Pro-Vc, IIUC

সূচনা:
সবুজ বৃক্ষ আল্লাহর এক মহান সৃষ্টি। আপাতদৃষ্টিতে গাছের অনেক উপকারের কথা আমরা জানি। গাছ জীবজগতকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ফল, ফুল, কাঠ, খাদ্য, ছায়া ইত্যাদি দেয়। বর্তমান শতাব্দীর বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার আগ পর্যন্ত মানুষের তাই ধারণা ছিল। মানুষ তথা তাবৎ জীব গোষ্ঠীর তা স্থলে হোক, জলে হোক বা অন্তরীক্ষে হোক, বেঁচে থাকার জন্য প্রতি মুহূর্তে অক্সিজেন অপরিহার্য। এই অক্সিজেনের কারখানা হলো সবুজ বৃক্ষ। অক্সিজেন ছাড়া কিছুই জ্বলে না। জ্বালানী জ্বলার জন্য সবুজ বৃক্ষের অক্সিজেন একান্ত প্রয়োজন। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের অনেক পূর্বে (চৌদ্দশত বছর আগে) অক্সিজেনের উৎসের এই তথ্য কুরআনের ৩৬ নং সূরা ইয়াসিনের ৮০নং আয়াতে আল্লাহ পাক আমাদের দিয়েছেন, “তিনি, যিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন! তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও” (৩৬:৮০)। এই প্রবন্ধে সূরা ইয়াসিনের এই আয়াতের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সৃষ্টির অধ্যয়নে স্রষ্টাকে জানো:
মহান স্রষ্টা সম্পর্কে জানার কৌতুহল হলে তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে জানার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন। আসলে সৃষ্ট জীবসমূহের সুবিশাল নিয়মতান্ত্রিক জীবন পদ্ধতি ও মানুষের উপকারার্থে তাদের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করলে অনুধাবন করা যায় যে প্রত্যেক সৃষ্টির পেছনে একজন স্রষ্টার অস্তিত্ব বিদ্যমান। আজাদী (১৯৯৭) এ বিষয়ে কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করার চেষ্টা করেছেন। প্রত্যেকটি সৃষ্টির বহুবিদ উদ্দেশ্য রয়েছে। আল্লাহর এক একটি নির্দেশের পেছনে হাজারো কারণ লুকায়িত থাকে যা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। সৃষ্টিকে জানতে পারলে ¯্রষ্টাকে বুঝা সহজ। তাঁর সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবার জন্য যে মেধা বা ক্ষমতার প্রয়োজন তা আমাদের নেই। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির উপর যৎসামান্য প্রভুত্ব দিয়ে মানুষকে তাঁর খলিফা হিসাবে প্রতিনিধিত্ব দিয়েছেন তা অধ্যয়ন ও ব্যবহার করে মানুষ নিজের প্রয়োজনে নতুন নতুন উপাদান বা যন্ত্রপাতি সৃষ্টির মাধ্যমে মানব কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে এবং ¯্রষ্টাকে বুঝার পথ সহজতর করতে পারে। 
এই অধ্যয়নকে সহজতর করার জন্য পবিত্র কুরআন শরীফে উদ্ভিদ, সমুদ্র,নক্ষত্রমন্ডল, মেঘমালাসহ আরো অনেক বিষয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসলে যে কোন সৃষ্টিকেই অধ্যয়ন করলে সমগ্র সৃষ্টির উপর ¯্রষ্টার যে নিয়ন্ত্রণ আছে তা ধরা পড়ে। নির্দিষ্ট কিছু সৃষ্টির উদাহরণ সম্ভবত এজন্যই দেয়া হয়েছে যে, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ যেন বিশাল সৃষ্টির মধ্য খেই হারিয়ে না ফেলে এবং এগুলো অধ্যয়ন করলেও অনেক সুফল লাভের সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা তারই এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সৃষ্টির বিভিন্ন প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করে এবং তাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। স্থলভাগের সর্ববৃহৎ প্রাণী হাতির মল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব বা উদ্ভিদের চালচলন ও জীবনচক্র অধ্যয়ন করে মানবতার কল্যাণে মানুষ অনেক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। ¯্রষ্টার সৃষ্টি বনরাজির একটি মৌলিক অঙ্গ গাছ নিয়ে পবিত্র কুরআনে যে সমস্তবিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে তার একটি বাক্য নিয়ে এই প্রবন্ধে আলোচনা করে ¯্রষ্টাকে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। 
সবুজ বৃক্ষ বেহেশতেও আছে:
গাছ বা সবুজ বৃক্ষ আল্লাহ যে শুধুমাত্র দুনিয়াতে সৃষ্টি করেছেন তা নয়, সুন্দর বৃক্ষপল্লব বেহেশতেরও অংশ। এমনকি মুসা (আ) আল্লাহ পাকের যে নূরের দর্শন লাভ করেছেন তাও স্বর্গীয় বৃক্ষের উপরই আবর্তিত হয়েছিল। অতএব শুধু বাহ্যিকভাবে নয় বরঞ্চ নৈসর্গিক দিক থেকেও বৃক্ষ যে কত মূল্যবান তা প্রণিধানযোগ্য। যাই হোক নৈসর্গিক বিষয়ে আমাদের জ্ঞান সীমিত। শুধুমাত্র বৃক্ষের বাহ্যিক বিষয় আলোচনা করতে গেলে পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা এত ব্যাপকভাবে এসে যায় যে, ছোট্ট এই প্রবন্ধে তার বিষদ ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। তবে যে বাক্যটি (৩৬:৮০) প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বৃক্ষের গুণাবলীর অন্তত একটি দিক নিয়ে বিধৃত করা হয়েছে।
জ্বালানীর উৎস:
উপরে উল্লেখিত সূরা ইয়াসিনের ৮০নং আয়াতে বলা হয়েছে, “এবং তিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন! অতঃপর তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও।” (৩৬:৮০)
আপাতদৃষ্টিতে আগুন জ্বালাবার মত উপাদানগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলেই আমাদের বোধগম্য হবে কাঠ এবং কয়লা, তেল, গ্যাস জাতীয় খনিজ জ্বালানীসমূহ উদ্ভিজ পদার্থ থেকে তাপ-চাপ ও সময়ের পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট। বর্তমান বিজ্ঞান অনেক অনুসন্ধানের পর তা স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু তারপরেও প্রশ্নটি থেকে যায়, যে যুগে বাক্যটি প্রিয় পয়গম্বরের নিকট প্রেরিত হয়েছিল সে যুগে এসব নানা ধরনের জ্বালানী সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল না। কাজেই ড. আজাদীর (আজাদী:১৯৯৭, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০০, ২০০৩) প্রবন্ধসমূহে উল্লেখিত যুক্তিতর্কের মত এ আয়াতটিও প্রমাণ করে আল কুরআন মানবসৃষ্ট কিতাব নয়। 
আল্লাহ প্রদত্ত এ দৃষ্টান্ত তখনকার লোক যেমন তাদের শুকনো কাঠ জ্বালানোর সাথে সম্পৃক্ত করে এর মমার্থ অনুধাবন করেছে, আজ বিজ্ঞানের উন্নতির শীর্ষযুগে এসেও এর এতটুকু ব্যত্যয় ঘটে নি। মানুষ যে আগুন জ্বালায়, গাড়ী চালায়, মহাসমুদ্র, মহাশূন্য পাড়ি দেয় তার সবটার পেছনে যে পদার্থ শক্তি যোগায় তা উদ্ভিজ পদার্থেরই রূপান্তর। অন্যভাবে বলা যায়, উদ্ভিদ যে সমস্তপদার্থ ব্যবহার করে এসব জ্বালানী শক্তি সঞ্চয় করে সে সমস্তপদার্থ থেকেও শক্তি উৎপাদন সম্ভব। এ বিষয়ে আমাদের গবেষণা অত্যন্তসীমিত বিধায় আমরা বুঝতে পারি না। অথচ আল্লাহর বাণী শ্বাশত। কেননা আল্লাহর কাছে অতীত বর্তমান ভবিষ্যত সবই সমান। তাঁর এই বাণী অতীতে যেমন ছিল, বর্তমানেও তাই এবং ভবিষ্যতেও একই থাকবে। অধ্যবসায়ের সাথে গবেষণা করলে তাঁর বাণীতে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক তথ্যসমূহের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে আমরা আমাদের প্রভূত কল্যাণ সাধন করতে সক্ষম হবো। তিনি পবিত্র কুরআনে যথার্থ ঘোষণা দিয়েছেন, যার মর্মার্থ হলো ‘পবিত্র কিতাব  কোন কিছুই বাদ দেয়নি’। অথচ আমরা ঘূর্ণাক্ষরেও এ সৃষ্টির প্রতি নিবেদিত হয়ে শোকর করি না।
জ্ঞান সাধনা জিহাদের সমতুল্য:
হয়তো আমরা অনেকেই জানি না যে, মানুষ যা সৃষ্টি করে চলেছে তা মহান আল্লাহর সৃষ্ট বস্তু ও জীবসমূহের ব্যবহার এবং আল্লাহর হুকুমসমূহের নিত্য-নতুন আবিষ্কার। এ কথাটি না বুঝার আরো কারণ হলো আধুনিক আবিষ্কারসমূহের প্রায় সবকটাই করেছে অমুসলিম বিজ্ঞানীগণ। ফলে এর আবিস্কারের কথা যতটা ফলাও করে প্রচার হয়েছে এটা যে আল্লাহর দান তা তেমন করে কখনো প্রচার হয়নি। এমনকি অনেক মুসলমানেরও ধারণা বিদেশী তথা ভিন্নধর্মী বহুজাতিক কোম্পানীগুলোই বিভিন্ন ধরনের জ্বালানী উৎপাদন করছে। মুসলমান বিজ্ঞানীগণ বিজ্ঞান সাধনায় আত্মনিবেদিত না হলে মানুষের আবিষ্কারের পেছনে যে মহান আল্লাহর করুণা বিদ্যমান তা প্রচার করা সহজ হবে না। এ জন্যই জ্ঞান সাধনা, আল্লাহর সৃষ্ট কৌশল সম্পর্কে জানা এবং তা মানুষের উপকারে ব্যবহার করা জিহাদের একটি অংশ হিসাবে মুসলিম পন্ডিত ব্যক্তিগণের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সভ্যতার বিকাশে আগুন:
এ সমস্ত আলোচনা রেখে এখন আমরা ফিরে আসি সবুজ বৃক্ষে আগুন উৎপন্ন করার বিষয়ে। অন্যান্য আধুনিক জ্বালানীসমূহ বাদ দিয়ে এখানে শুধু কাঠের আগুনের কথাই বলবো। কিন্তু তার আগে সূরা ইয়াসিনের আলোচ্য ৮০ নং আয়াতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে হয়। বাক্যটির আগে পরে সূরাটিতে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তা দিয়েই আমরা বাক্যটির গুরুত্ব নির্ধারণ করতে পারবো। সূরা ইয়াসিনের আলোচ্য আয়াতটির আগের তিনটি আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “মানুষ কি দেখে না যে আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে; অতঃপর এখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাক-বিত-ার কারণ। সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভুত কথা বর্ণনা করে। অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পঁচে গলে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলো সৃষ্টি করেছেন তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (৩৬:৭৭-৭৯)
এমন কয়েকটি সৃষ্টি নৈপুণ্যর কথা বলেই অবতারণা করা হয়েছে গাছের ভিতর আগুন উৎপাদনের বিষয়টি। কেননা এটি মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহপাকের এক বিশেষ সৃষ্টি বৈকি।মানুষের সভ্যতার বিকাশ বা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সমস্তই এ আগুনের উপর নিভর্রশীল। কিন্তু একটা সাধারণ গাছ দেখলে মানুষের কখনোই ধারণা হবে না যে এটা আগুন। এর মধ্য থেকেই আল্লাহ আগুন নির্গত করেন। মানুষের চোখের অন্তরালে এ সৃষ্টিকে তিনি উদাহরণ হিসাবে স্থাপন করে বুঝাতে চেয়েছেন যে তিনিই সৃষ্টি সম্পর্কে অবহিত। 
আরো কিছু আগের আয়াতে গেলে দেখা যাবে আল কুরআনের ঐ সূরায় চতুষ্পদ জন্তু ও তাদের উপকারিতার কথা বলা আছে এবং তাদেরকে মানুষের বশ্যতা স্বীকার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বস্তুতপক্ষে মানুষ বিরাট আকারের হাতিসহ ছোট-বড় বিভিন্ন জানোয়ারকে পোষ মানায় এবং তাদের উপকার গ্রহণ করে। 
এরও আগের আয়াতে মানুষের জীবন চক্র, চন্দ্র-সূর্যের গতি ও সীমাব্ধতা এবং কেয়ামতের কথা বলে একেবারে শেষদিকে এসে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপাদনের কথা একটি বিশেষ গুরুত্ব রাখে। এর পরের বাক্যগুলি অনুধাবন করলেই বুঝা যায় ঐ উদাহরণ দেয়ার পর তিনি ¯্রষ্টা হিসেবে কত বিশাল বৈভবের অধিকার দাবি করেছেন। পরবর্তী আয়াতসমূহে আল্লাহ বলেন, “যিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি সেগুলোর অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনি মহা¯্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলে দেনÑ হও, তখনই হয়ে যায়। অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তারই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩৬:৮১-৮৩)
আগুন, গাছ ও জ্বীন:
উপরিউক্ত আয়াতগুলো থেকে বুঝা যায়, আলোচ্য আয়াতটি উল্লেখ করার আরো মর্মার্থ দাঁড়াতে পারে যে,লোকেরা যখন পঁচা গলা হাড় থেকে মানুষকে পুনরায় সৃষ্টির সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তখন আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন মানুষের শরীর নিঃসৃত উপাদান (যেমন শুক্রানু ও ডিম্বানু) থেকেও তিনি সৃষ্টি করতে পারেন। এমনকি আমরা যাকে কাঠ হিসেবে দেখি তার থেকে তিনি একেবারেই ভিন্নতর জিনিস যেমন আগুনও সৃষ্টি করতে পারেন। অর্থাৎ মানুষ শুধু নয় আগুনের তৈরি জ্বীনদেরও পূর্ণ অবয়বে সৃষ্টি করা আল্লাহর জন্যে সহজ। প্রকৃতপক্ষে আগুনের তৈরি যাক্ষুম বৃক্ষের কথাও পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা হবে দোযখীদের খাদ্য (৪৪:৪৩-৪৬)। ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা আছে যে যাক্ষুম গাছের মূল থাকবে আগুনের সাথে সংযুক্ত। এসব কিছুই তাঁর পক্ষে সম্ভব। মানুষের পক্ষে ভিন্ন মাত্রার বস্তু অনুধাবন করা কঠিন। অন্যদিকে, মানুষ সভ্যতার অগ্রগতির জন্যে যাসৃষ্টি করে যাচ্ছে, তার গোঁড়ায় রয়েছেআল্লাহর সৃষ্ট এসব উপাদান। 
সৃষ্টির রূপান্তর:
¯্রষ্টার সৃষ্ট এসব উপাদান ব্যবহার করে নিঃশেষ করা যায় না। শুধুমাত্র এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় রূপান্তর করা যায়।মানুষের অবস্থাও তাই। মানুষ মাটি থেকে সৃষ্ট, মরে গেলে মাটির সাথে মিশে যায়। পরবর্তীতে ঐ মাটি থেকে আল্লাহ মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করা যুক্তিসংগত যে, মাটির তৈরি মানুষের প্রায় যাবতীয় খাদ্য মাটির উপর জন্মানো বৃক্ষের উপর নির্ভরশীল। অনুরূপভাবে হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনা হতে বুঝা যায় আগুনের তৈরি জ্বীনের খাদ্যও আগুনের উপাদান কয়লার উপর নির্ভরশীল। 
এখানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে যে, মানুষ যেমন মরে গেলে মাটিতে রূপান্তরিত হয়। তাহলে জ্বীনেরা মরে গেলে কি আগুনের উপাদানের সাথে মিশে কয়লা ইত্যাদি হয়ে যায়? এর উত্তর আমাদের জানা নেই।কিন্তু এটা সত্য যে আল্লাহর সৃষ্ট জীবসমূহের জীবন পদ্ধতি চক্রাকারে আবর্তিত হয়। এগুলো সম্পর্কেও আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত। এগুলো অধ্যয়ন করে মহান ¯্রষ্টাকে উপলদ্ধি করার সাথে সাথে আমাদের নিজেদের কল্যাণ সাধনের অনেক সুযোগ রয়েছে।
অক্সিজেন ও কাঠ কীভাবে তৈরি হয়:
কাঠ পোড়ালেই আগুন উৎপন্ন হয়। আগুন উৎপাদনে বাতাসে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া একটা প্রধান অংশ। এ অক্সিজেনের উৎপাদকও হলো সবুজ বৃক্ষ। সবুজ বৃক্ষের পত্র-পল্লবে পতিত সূর্যের আলো এবং মাটি থেকে শুষে নেয়া পানি ও খনিজ পদার্থ থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গাছ যা কিছু তৈরি করে, তাই ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে কাঠ হিসাবে। এই প্রক্রিয়ারই বাই-প্রোডাক্ট হিসাবে উৎপাদিত হয় অক্সিজেন। ‘সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপাদন’ সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা একই সাথে অক্সিজেনউৎপাদনকে বুঝানো হয়ে থাকতে পারে। সূরা আল-ওয়াক্বিয়ার (৫৬) ৭১-৭৩নং আয়াতসমূহ পর্যালোচনা করলে তা অনুধাবন করা যায়।
আগুন নিয়ে গবেষণার ইঙ্গিত:
উপরে বর্ণিত আয়াতসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে, “তোমরা যে আগুন প্রজ্জ্বলিত কর সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? এই বৃক্ষ তোমরা সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি? আমিই এটাকে করেছি নিদর্শন এবং মরুবাসীর জন্য সামগ্রী।” (৫৬:৭১-৭৩)
এখানে সরাসরি বৃক্ষের কথা না বলে আগুন কেন জ্বলে, কীভাবে জ্বলে সে বিষয়ে গবেষণা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং ঐ গবেষণায় আগুন প্রজ্জ্বলনে যে সমস্ত উপাদান পাওয়া যাবে সেগুলোর সৃষ্টিকর্তা কে, সে সম্পর্কে আলোকপাত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পরক্ষণেই সূত্র টানা হয়েছে বৃক্ষের। অর্থাৎ গবেষণার কী ফলাফল পাওয়া যাবে মহান আল্লাহ তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এভাবেই মহান আল্লাহ কুরআনকে মানুষের কাছে সহজতর করার প্রয়াস পেয়েছেন। অর্থাৎ যতই গবেষণা করা হোক না কেন, আগুন জ্বালানোর কোন না কোন উপাদান হবে বৃক্ষ থেকে উৎপন্ন। এসব উপাদানের একটি হিসেবে অক্সিজেনকে বর্তমান বিজ্ঞান জানে।
আসলেই অক্সিজেন ছাড়া আগুন জ্বলে না। শুধু আগুন জ্বালানো নয়, আগুন দিয়ে কী কাজ হবে তাও নির্ভর করে অক্সিজেনের মাত্রার উপর। আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর দিকে তাকালে আমরা তার দৃষ্টান্ত দেখতে পাব। ওয়েল্ডিংয়ের সময় কোন ধাতব পদার্থ জোড়া লাগবে বা কাটা যাবে, তা নির্ভর করে জ্বালানী ও অক্সিজেনের মিশ্রনের উপর। গাড়ির ইঞ্জিন কতটুকু ইফিসিয়েন্ট হবে তা নির্ভর করে জ্বালানি ও অক্সিজেনের মিশ্রণের উপর। অর্থাৎ গাড়ির কার্বোরেটর এডজাস্টমেন্ট স্থির থাকলে বিশুদ্ধ ও দূষিত বাতাসে গাড়ির ইফিসিয়েন্সি ভিন্ন হবে। অথচ বিজ্ঞানও স্বীকার করে, প্রকৃতিতে সবুজ বৃক্ষ প্রজ্জ্বলনে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘অক্সিজেন’ আর কেউ উৎপাদন করে না। বলুন এটা কি আল্লাহর হুকুম নয়?
কোষের জারণে অক্সিজেন:
অক্সিজেনের সহায়তায় শুধু যে আগুন জ্বলে তা নয়, মানুষসহ সমস্ত বহুকোষী প্রাণী ও উদ্ভিদ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করে চালিয়ে রাখে জীবিকা শক্তি। বাতাসে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে তার চেয়ে অক্সিজেনের পরিমাণে যদি সামান্য তারতম্য হয়, তাহলে সমস্ত প্রাণিকুল হয় অক্সিজেনের অভাবে অথবা অক্সিজেনের আধিক্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মারা যাবে। আল্লাহ সৃষ্ট বৃক্ষকুল তাঁর অমোঘ নির্দেশে বাতাসে অক্সিজেনের এক অনাবিল ভারসাম্য বজায় রাখছে, যাতে সমগ্র প্রাণিকুলের অস্তিত্ব টিকে আছে। এখান থেকে আমাদের আগের বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় যে, একটি সৃষ্টিকে অধ্যয়ন করতে গিয়ে একাধিক উপকার অর্জন করা সম্ভব। আমরা কি গাছের এ ভূমিকাকে গাছের এক ধরনের এবাদত বলতে পারি না? গাছও এভাবেই আল্লাহর নির্দেশ পালন করছে।
আল্লাহর  ইবাদতে নিবেদিত গাছ:
তাই যদি হয় তাহলে এটাও কি বলা যাবে না যে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে সবুজ গাছে আগুন উৎপন্ন হচ্ছে? হ্যাঁ তাই। গাছের সালোক সংশ্লেষণ ও শ্বসনের মত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সমূহকে আল্লাহরসৃষ্টি নিয়মের প্রতি বৃক্ষের আনুগত্য বা ইবাদত হিসেবে গণ্য করা যায়। কেননা আল্লাহর এই অমোঘ নীতি পালন করতে গিয়ে গাছপালা উপকার করছে মানুষসহ লাখো সৃষ্ট জীবের। বৃক্ষের এ ইবাদতের ফলে যে কাঠ সৃষ্ট হয় তাতে আগুনের উপাদান লুকিয়ে থাকছে, যা মানুষ না জ্বালানো পর্যন্তবুঝতে পারে না। মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের মূল উপাদান আগুনের উৎস এরই মাঝে লুকিয়ে আছে। কাজেই মানুষ যখন তার পুনর্বার সৃষ্টি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছে, তখন আল্লাহ সবুজ বৃক্ষের মধ্যে এমন একটা সৃজনী দেখিয়ে দিলেন, যা মানুষ স্বাভাবিকভাবে দেখে না। জ্বালালেই শুধু বুঝতে পারে।
আল্ল্হার হুকুমে আগুন তাপবিহীন:
এখন হয়তো কেউ বিতর্ক করতেপারে কাঠ জ্বালালে আগুন হবে, এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার।এতে আবার আল্লাহর হুকুম কিসের? কিন্তু না এটা আমাদের অজ্ঞতা।এটা যে আল্লাহর হুকুম, পবিত্র কুরআনে ঐতিহাসিক ঘটনা দিয়ে তিনি এ সম্পর্কে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। আগুন সাধারণত সব কিছুকে জ্বালিয়ে ছারখার করে দিলেও হযরত ইব্রাহীম (আ) এর একটা কেশাগ্রও পোড়াতে পারেনি। কারণ আল্লাহ ঐ আগুনকে পোড়ানোর হুকুম দেন নি। এরকম আরো ঘটনার উল্লেখ তিনি করেছেন যাতে তাঁর সৃষ্ট পদার্থের গুণাবলি যে তাঁরই হুকুম মাত্র, তা বুঝা যায়। যেমনÑ ধারালো ছুরির ধার ক্ষমতা ঈসমাইল (আ) এর ক্ষেত্রে কাজ করেনি, কারণ তা ছিল আল্লাহর হুকুম। কিংবা আসহাবে কাহাফকে ৩’শ বছর(সৌর) এবং ৩০৯ বছর (চন্দ্র) ঘুমন্ত অবস্থায় জীবিত রাখার যে ঘটনা, তা ছিল আল্লাহর হুকুম (১৮:২৫)। মাছের পেট থেকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর ইউনুস (আ) কে সামান্য লতা-গুল্মের আবরণ দিয়ে আরোগ্য করে তোলা হয়, এটাও ছিল আল্লাহর হুকুম। এতসব অস্বাভাবিক ঐতিহাসিক ঘটনার থেকে স্বাভাবিক নিয়মাবলিও যে আল্লাহর হুকুম সেটাই প্রতিভাত হয়।
স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক হুকুম:
এখন কথা হচ্ছে, অসাধারণ কিছু হুকুমের উদাহরণ দিয়ে স্বাভাবিক ঘটনাগুলি যে আল্লাহর হুকুম তা বাস্তবে প্রমাণের উপায় কী? উপায় হলো, আমাদের সাধনা আর অধ্যবসায় দিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা। আল্লাহতাঁর প্রিয় বান্দাদের উপকারার্থে একবার যেটা হুকুম করেছেনস্বীয় বৈশিষ্ট্যের ফলে তা তুলে নেননি। তিনি নিখিল বিশ্বকে বিস্তরণশীল হওয়ার হুকুম করেছেন, কেয়ামত পর্যন্ততা হতেই থাকবে। জোয়ার-ভাটার যে হুকুম করা হয়েছে, তা অনন্তকাল ধরে চলতেই থাকবে। আমাদের ধারণার মধ্যে তাঁর সে সব স্বাভাবিক হুকুম বাস্তবায়িত হতে দেখি সেগুলো অব্যাহত রয়েছে। ঐ সব প্রবাহমান ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা বুঝতে পারি তার হুকুমসমূহ একেবারে শূন্যের উপর কাজ করে না। কিছু না কিছু পদ্ধতি তৈরি হয়ে থাকে। চন্দ্র-সূর্যের অবস্থান, মহাকর্ষ বা মধ্যাকর্ষণ বল, এসব পদ্ধতি দ্বারা মহাবিশ্ব আবর্তিত হচ্ছে। 
অনুরূপভাবে অস্বাভাবিক ঘটনাগুলোর যে উদাহরণ তিনি দিলেন সেগুলোও কিন্তু তাঁর হুকুমে সৃষ্ট পদার্থের গুণাবলি পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়েছে। তাঁর এই হুকুম তিনি তুলে নেন নি। কাটা না কাটা, জ্বালানো না জ্বালানো, রোগের আরোগ্য সব হুকুমই কিন্তু বিদ্যমান। স্বাভাবিক হুকুমগুলো প্রকাশ্যভাবে আমরা দেখছি আর অস্বাভাবিক হুকুম আমদের নাগালের বাইরে।আমরা সামান্য জ্ঞান দিয়ে যতটুকু হুকুম ব্যবহার করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি ঠিক ততটুকুই সুফল লাভ করতে পারি। এটাকেই আমরা জ্ঞান রূপে জানি। যেমন তরুলতা প্রক্রিয়াজাত করে আমরা যতটুকু আরোগ্যের হুকুম উন্মুক্ত করে ব্যবহার করতে পারি ততটুকুইউপকৃত হই। যত সাধনা করা হবে তত বেশি আল্লাহর হুকুম উন্মোচন করে অধিক সুফল লাভ করা সম্ভব হবে। এ আলোচনা থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর সৃষ্টিকূল নিয়ে অধ্যয়ন করলে শুধু একাধিক উপকার লাভ করা যাবে তা নয় উপকারের মাত্রাও অনাবিলভাবে বেড়ে যাবে।
এটা তো হলো একটা উদাহরণ। মানুষ আল্লাহর সাহায্যে অন্যান্য স্বাভাবিক হুকুমগুলোকেও যে কাজে লাগাতে পারবে না, তা নয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রচন্ড অধ্যবসায়ের। অ্যাটম বোমার যে বিধ্বংসী ক্ষমতা আইনস্টাইনের সূত্র থেকে অবিষ্কার করা হয়েছে, তার ইঙ্গিতও পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে হযরত মূসা (আ) এর তূর পাহাড়ের অস্বাভাবিক ঘটনার মাধ্যমে। এভাবে আসহাবে কাহাফের ঘুমন্ত অবস্থায় জীবিত থাকার ঘটনা, কাবা থেকে আকসা পর্যন্তমেরাজের রাত্রিতে রাসূল (সা) এর দ্রুত ভ্রমণ কিংবা দহনবিহীন আগুনের ¯্রষ্টার যে সমস্তঅস্বাভাবিক হুকুম যুগে যুগে নবীগণ তথা মানুষের উপকারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, মানুষ হয়তো প্রচন্ড অধ্যবসায় আর সাধনা দ্বারা আল্লাহর হুকুমসমূহ বিশ্লেষণের চেষ্টা করে কিছু না কিছু উপকার অর্জন করত পারে। 
দাজ্জাল কর্তৃক মৃতকে পুনরায় জীবিত করার ক্ষমতা সংক্রান্ত একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। হযরত ঈসা (আ) কে দেয়া আল্লাহর যে হুকুম রয়েছে, সাধনা-কৌশল দ্বারা তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হয়তো বৈজ্ঞানিক দুর্ঘটনায় এ সংক্রান্ত সীমিত ক্ষমতা দাজ্জাল লাভ করবে। এটাও আল্লাহর হুকুমের বাইরে হবে না। তাই বলে দাজ্জালদের ব্যবহারের জন্য আল্লাহ পাক অস্বাভাবিক ঘটনাগুলি কুরআনে বিধৃত করেন নি। এগুলি এসেছে মুসলমানদের কাছে মানবতার জন্যে। 
তবে একটা অস্বাভাবিক ঘটনার ধারে কাছে মানুষ কিছুতেই পৌঁছাতে পারবে না, সেটা হলো কুরআন সৃষ্টি।কারণ কুরআনের বহু আয়াতে আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করেছেন। এদিকে শ্রম দেয়া মানেই নিজেদের কল্যাণের পায়ে কুঠারাঘাত করা। এমনকি কুরআনে নির্ধারিত নিয়মনীতির সমান্তরাল কিছু সৃষ্টি করে সমাজে ব্যবহার করলেও অকল্যাণ অবধারিত। মানুষের মনগড়া রীতিনীতি থেকে যে সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হচ্ছে এগুলো তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। চৌদ্দশত বছর পূর্বে প্রেরিত বাণী এখনো অম্লান, কল্যাণকর, একইভাবে কার্যকর এবং চিরদিন তাই থাকবে। কেননা এটাই আল্লাহর বাণী, এমনই শ্বাশত তাঁর হুকুম। এগুলোর সঠিক বিশ্লেষণ ও সৌম্য ব্যবহারে বিশ্বাসীগণ এগিয়ে আসলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানে সুফল লাভ সম্ভব হবে।
খেলাফত প্রতিষ্ঠায় বিজ্ঞান ও কুরআন সাধনা জিহাদের সমতূল্য:
একটু আগে আমরা আল্লাহর হুকুমসহ বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে নিজের কল্যাণ সাধনের বিষয়ে আলাপ করছিলাম। ধরা যাক, দাজ্জাল না হয়ে যদি কোন মুসলমান কাউকে জীবিত করার ক্ষমতা অর্জন করতো তাহলে সে নিজেকে আল্লাহ দাবি করতো না, মানুষকে বিপথে টানতো না। যেমন হযরত ঈসা (আ) মৃতকে জীবিত করার অলৌকিক ক্ষমতা পেয়েও মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ডাকেন নি। অর্থাৎ গবেষণা করে জ্ঞানার্জনে কোন দোষ নেই। দোষ হলো জ্ঞানের অপব্যবহারে। 
কাজেই অস্বাভাবিক ঘটনার এ সমস্ত উদাহরণ থেকে তাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি নিয়ে মুসলমানরা যদি জ্ঞান সাধনায় এগিয়ে যায়, তাহলে ¯্রষ্টার উপর বিশ্বাসে মানুষের বিভ্রান্তির অবকাশ থাকবে না। বরং আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু মুশরিক সম্প্রদায় আজ জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকায় যত অশান্তিসৃষ্টি হচ্ছে। অবদমিত হচ্ছে আল্লাহর অনুগত বান্দা। আর গর্বে আস্ফালন বেড়ে যাচ্ছে মুশরিকদের। এ আস্ফালন বন্ধকরতে আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য যদি জ্ঞানী-গুণী বিশ্বাসী বান্দাগণ এগিয়ে আসেন, তাহলে তা হবে জিহাদের সমতুল্য। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান বিশ্বে টেকসই জিহাদ হতে হবে এভাবেই।জ্ঞানার্জনের প্রতিযোগিতাই আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসাবে। এভাবেই আমরা যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারি আমাদের প্রিয় নবীজির প্রতি। আর এজন্যে আমরা সূত্র হিসাবে আল-কুরআনে দেয়া নিদর্শনসমূহের ব্যবহার করতে পারি।
বিশ্বে কেন আমরা পরাজিত ও অবহেলিত:
যদি সবুজ গাছের মধ্যে স্বাভাবিক আগুনের যে অস্বাভাবিক হুকুম আছে সেদিকে দৃষ্টি ফেরাই, তাহলে দেখতে পাব,আল্লাহ শুধুমাত্র তার প্রভুত্ব জাহির করার জন্য পবিত্র কুরআনে তথ্যটির উল্লেখ করেননি। বরং সে বিষয়ে অধ্যয়ন বা গবেষণা করে সভ্যতার মাপকাঠিতে আমরা যেন এগিয়ে থাকতে পারি সে সুযোগ তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা তা সাধন করে ব্যবহারে সচেষ্ট নই। আল্লাহর হুকুমসমূহের মধ্যে যে কী অসীম কল্যাণ নিহিত, তা আমরা বিশ্বাসীরা অনুধাবন করি না। এজন্যই আমরা আজ পরাজিতের গ্লানি ভোগ করছি। 
একটু আগেই আমরা বলেছি গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত আল্লাহর হুকুম পালন করছে। যার কোন ব্যত্যয় হচ্ছে না। দিন এবং রাত ছড়ানোর মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর তারই মাঝে সঞ্চারিত হচ্ছে আগুন তৈরির এ হুকুম। এ পর্যায়ে আমরা বলতে পারি, সূর্যের তাপ ও মাটি থেকে শোষিত পানি ধীরে ধীরে সবুজ পল্লবে যে বিক্রিয়া করে তাই আগুন হিসাবে জমা হয়। এ উদাহরণ অনুসরণ করে মানুষও যে  সূর্যের তাপ ও পানি থেকে আগুন উৎপাদন করছে না, তা নয়। ‘তাপবিদ্যুৎ’ এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমানে এসব আবিষ্কারের পেছনে মুসলমানদের অবদান গৌণ। এতে আমরা কুরআনের অনুসারীগণ যথাযথভাবে কুরআনকে অনুধাবন করছি বলে প্রতীয়মান হয় না।
লিগনিফিকেশন, সিলিকন, সবুজ উদ্ভিদ ও গবেষণা:
সবুজ গাছে কাঠের মধ্যে ধীরে ধীরে জ্বালানী দ্রব্য জমানোর এ প্রক্রিয়াকে আমরা বিজ্ঞানের ভাষায় লিগনিফিকেশন বলি। শুকনো কাঠে জমানো এ সমস্ত দ্রব্যাদিকে কাঠের সিলিকন বলে এবং এ সমস্তসিলিকন কণা  চিরানো কাঠের কোষের মধ্যবর্তী ছোট ছোট গহ্বরে স্ফটিক কণার মত চিক চিক করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, যে গাছটি যত বেশি সিলিকন জমা করে তা তত বেশি দাহ্য হয়। আগুন উৎপাদনকারী এ সমস্তকণার আরো যে কত গুণাবলি আমাদের কাছে অজানা রয়ে গেছে বা থাকতে পারে, তা গবেষণা না করলে বুঝা যাবে না। 
গাছ সব সময় সূর্যের আলোর দিকে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে। বাস্তবেও আমরা তাই জানি। কিন্তু আমরা কি ঘূর্ণাক্ষরেও চিন্তা করি কোন দিকে গাছের শাখা-প্রশাখা বিস্তার হবে, তার সিগন্যাল ধীরে ধীরে জমানো এই সিলিকন কণাগুলোর মধ্য দিয়েই প্রবাহিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে? না, কোন বিজ্ঞান এখনো একথা স্পষ্ট করে বলে না। এ কণাগুলো মৃত কোষে জমা হলেও এরা কীভাবে আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে বহুবিধ কাজ করতে পারে এ বিষয়ে গবেষণার অবকাশ আছে।
ডুপিং, মাইক্রোচিপস, কম্পিউটার ও সবুজ উদ্ভিদ:
আমরা জানি, খনিজ সিলিকন ডুপিংয়ের সাহয্যে মাইক্রোচিপস তৈরি করে কম্পিউটারসহ বিশ্বের অনেক কলাকৌশল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গাছের মধ্যে লিগনিফিকেশন প্রক্রিয়ায় জমানো এই জৈব সিলিকন কণাও কিন্তু এক ধরনের ডুপিং। গুণাগুণ জানা থাকলে গাছের এ জৈবিক কণা ব্যবহার করে আরো দ্রুতগতিসম্পন্ন, স্বনিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় কলাকৌশল আবিষ্কার সম্ভব হতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এ বিষয়ে গবেষণা কেবল একজন উদ্ভিদ জৈববিশারদের পক্ষেই সম্ভব। আরো দরকার হতে পারে জৈবতরিৎ বিষয়ে অভিজ্ঞ গবেষকের। দলবদ্ধভাবে কাজ করলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হবে। এখানেই দলবদ্ধভাবে কাজ করার সুফলতা। এজন্যই আল্লাহ পাক মুমিনদের দলবদ্ধভাবে কাজ করা নির্দেশ দিয়েছেন। আর এজন্যই হয়তো বলা হয়, দলবদ্ধভাবে কাজ করলে কমপক্ষে ২৫গুণ অতিরিক্ত সওয়াব লাভ করা যায়। দলবদ্ধভাবে ইবাদত করা শুধু নামাজের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও এর প্রভাব আছে। শুধু‘আমাদের যাবতীয় কাজ ¯্রষ্টার জন্য নিবেদিত’- এই নিয়ত থাকতে হবে। 
ধর্মহীন দল,মত ও সংস্কৃতি শ্বাশত নয়, আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব অর্জন, অর্থাৎ খেলাফত প্রতিষ্ঠায়ও অকার্যকর:
আসলে শুধু আল্লাহর হুকুম কায়েমের জন্য বা ধর্ম পালনের জন্য নয়, বাস্তব জীবনেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত পথ মেনে না নিলে কোন জামায়াত বা দলবদ্ধতা শাশ্বত হতে পারে না। আমাদের মধ্যে তথাকথিত প-িত ব্যক্তিগণ যারা ধর্মের নামে দলবদ্ধ হয়ে স্বদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করাকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখেন, তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝানো যায় ধর্মহীন জামায়াত শাশ্বত (ঝঁংঃধরহধনষব) নয়। তাদের অনেকে বাংলাদেশী বা অন্যান্য সংস্কৃতির নামে দলবদ্ধতার কথা বলেন। কিন্তু তা শাশ্বত হতে পারে না, কেননা কালচার বা সংস্কৃতি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। এখনকার বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় কালচার যে কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তা বুঝা খুব কঠিন নয়। বিশ্বায়ন যে কীভাবে বেশ্যায়ন হচ্ছে তা সেই প্রগতিবাদীরা নিজেদের কলামে লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। 
অন্যদিকে সংস্কৃতি সব বয়স বা শ্রেণির জনগণকে এক করতে পারে না। কিশোরদের সংস্কৃতি এক রকম, বুড়োদেরটা আরেক রকম, এমনকি নারীদেরটাও ভিন্ন রকম। ধর্ম যেমন রাজা-বাদশা, ফকির-নকীর, ছোট-বড়, ধনী-গরীব, কিশোর-বুড়ো, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে বন্দি করে তা আর কোথাও সম্ভব নয়। অতএব অন্য কিছু শাশ্বত হতে পারে না। আরো উদাহরণ দেয়া যায়, যে অর্থ কড়ির জন্য যদি জমায়াত করা হয় তাও কিন্তু শাশ্বত নয়। আমাদের গ্রামে-গঞ্জে অর্থভিত্তিক যে সমস্তসমবায় সমিতি গড়ে উঠে সময়ের সাথে সেগুলোর ভাঙ্গন আর অবলুপ্তির কথা আমরা সবাই জানি। এমনকি অর্থের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশের সমবায়ও (ইউরোপিয়ান অর্থনৈতিক সহযোগিতা) তর্ক-বিতর্কে ভারাক্রান্ত। নেতা-নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে ভরপুর। আর আমাদের রাজনৈতিক ভাঙ্গন তো পার্থিব রাজনৈতিক জামায়াতের নশ্বরতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। লেলিন বা মাওয়ের মতো অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে গঠিত মতবাদভিত্তিক জামায়াত বা দল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিলুপ্তিও এর প্রমাণ দেয়। অতএব, এতসব উদাহরণের পরও যদি আমরা এক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নেতৃত্বে শাশ্বত জামায়াতভিত্তিক সমাজ ও সাধনার সৃষ্টি করতে না পারি, তাহলে সভ্যতা ও বিজ্ঞানের বর্তমান অগ্রযাত্রায় বিশ্বাসীদের অবদান হয়ে যাবে অত্যন্ত গৌণ এবং আমরা হবো শাসিত। 
বস্তুতপক্ষে পারিবারিক, সামাজিক পর্যায়ে এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আমাদের জামায়াত প্রতিষ্ঠায় বা একতাবদ্ধ হওয়ার যে নশ্বরতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না। এতে প্রতীয়মান হয় যে আল্লাহর প্রতি আমাদের বিশ্বাসের মাত্রা ও ইবাদতের জন্য যে আত্মত্যাগ, তাতে ভাটা পড়ে গেছে। ঈমানের দৃঢ়তায় বলীয়ান হয়ে, ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিতে দলবদ্ধ হয়ে যদি আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধনার দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টিকে ব্যবহার করে সুফল লাভে সচেষ্ট হই, তাহলেই আল্লাহ পাক আমাদেরকে (খলিফা) পৃথিবীতে যে খেলাফত প্রদান করেছেন তা সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা আমাদের জন্য সহজতর হবে।
উপসংহার:
বর্তমান শতাব্দীতে বিজ্ঞানের আবিষ্কার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। নিত্য নতুন আবিষ্কার মানুষের কাজকে সহজ থেকে সহজতর করে দিচ্ছে। জ্বালানীর অন্যতম মাধ্যম অক্সিজেনসহ বহুবিধ জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার মানব সভ্যতাকে দ্রুততর গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এই অক্সিজেনসহ প্রায় সব জ্বালানীর উৎস সবুজ গাছ, মানুষ তা জেনেছে এই সেদিন মাত্র। অথচ চৌদ্দশত বছর আগে আল্লাহ পাক এই অমোঘ সত্য তথ্যটি কুরআনে পাকের সূরা ইয়াছিনের ৮০নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন। কুরআনে পাকের প্রত্যেকটি আয়াত শাশ্বত ও মানব কল্যাণে নিবেদিত। সবুজ গাছ অক্সিজেন দিয়ে ইবাদত তথা আল্লাহর হুকুম পালনের মাধ্যমে পরিবেশকে সর্বদা দূষণ মুক্ত ও যাবতীয় শক্তি উৎপাদনের কাজে সাহায্য করছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রাখার কাজে সবুজ গাছ সদা নিয়োজিত। 
অতএব সদা সর্বদা শয়তানী প্ররোচনায় সন্ত্রাসের যাঁতাকালে নিষ্পেষিত সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় পরিবেশকে কলুষমুক্ত রাখতে হলে কুরআন পাকে নির্দেশিত আল্লাহর হুকুম কায়েম তথা এবাদতের কোন বিকল্প নেই। মানুষের চলার পথের সব সমস্যার সমাধান আল কুরআনে আল্লাহ পাক দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “এবং ওরা তোমার নিকট এমন কোন সমস্যা উপস্থিত করেনি যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি।” (২৫:৩৩)
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর হুকুম সমাজে তথা রাষ্ট্রে কায়েম হলে সমাজ সন্ত্রাস ও কলুষমুক্ত হতে বাধ্য। যেমনটি সবুজ বৃক্ষে কায়েম হওয়ার ফলে অক্সিজেন নির্গমনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ সর্বদা কলুষমুক্ত রয়েছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ কলুষমুক্ত রাখতে আমরা ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়ভাবে সবাই গাছ লাগাচ্ছি। ঠিক তেমনি সামাজিক পরিবেশকে কলুষমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত রেখে শান্তি সুখের ফল্গুধারা বয়ে দেবার জন্য আল-কুরআনে বর্ণিত পরম দয়ালু সৃষ্টিকর্তার সামাজিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক হুকুমগুলো কায়েমের দায়িত্ব কার? এ দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা যতদিন পালন না করবো ততদিন সমাজ তথা রাষ্ট্র সন্ত্রাস ও কলুষমুক্ত হতে পারবে না। বিচার দিনে সবুজ বৃক্ষের মত নিজকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এক ভয়ংকর আগুনে আমাদের নিপতিত হতে হবে (আজাদী,২০০৩)। একদিকে মুসলিম নাম ধারন করেছি অন্যদিকে আল্লাহর দেয়া আইনের পরিবর্তে নিজেদের মনগড়া (ব্রিটিশ প্রবর্তিত) আইনে আমরা চালিত হচ্ছি বলে আমরা ও আমাদের নেতৃবৃন্দ হয়ে পড়ছি আল্লাহর শরীকদার তথা মুশরিক, নচেৎ মুনাফিক। যাদের গন্তব্য স্থান আগুন। 
আসুন এ আগুন থেকে বাঁচার জন্য আজই আমরা আল-কুরআনকে অর্থ সহকারে বুঝে পড়ি এবং তাতে বর্ণিত আল্লাহ প্রদত্ত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় হুকুম তথা সার্বিক নিয়ম নীতিকে বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। “হুকুম বিধান তাঁরই এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (২৮:৮৮)
আল্লাহ আমাদের তাঁর হুকুম পালনের তৌফিক দিন। শুধু নামে নয় সার্বিক কর্মেও মুসলমান হওয়ার যোগ্যতা দিন।

তথ্যপঞ্জী:
১। কুরআনুল করিম (১৯৯২): বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর (১৪১৩ হিজরি), অনুবাদ সম্পাদক: মওলানা মুহিউদ্দিন খান, খাদেমুল হারমাইন বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ প্রকল্প, মদীনা।
২। কুরআনুল করিম (১৯৮৩): বাংলা তরজমা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা।
৩। আজাদী, মো. আলী (১৯৯৭): আল কুরআন ও জীবজগৎ, আত তাকবীর ৩:২৭-৩২।
৪। আজাদী, মো. আলী (১৯৯৮): বিশ্বসৃষ্টির আদি ও অন্ত: বিজ্ঞান ও কুরআন, আত তাকবীর ৪:২৪-৩০।
৫। আজাদী, মো.আলী (১৯৯৯): কিয়ামত কখন ও কীভাবে: আল-কুরআন ও বিজ্ঞান, আত তাকবীর ৫:৬-১২।
৬। আজাদী, মো. আলী (২০০০): কুরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে সমুদ্র ও মহাসমুদ্র, আত তাকবীর ৬:৬-১১।
৭। আজাদী, মো. আলী (২০০৩): কিয়ামত ও তারপর: কখন ও কোথায়-বিজ্ঞান ও কুরআন, মনযিল ১৯-৩০, ইসকপ, চট্টগ্রাম।
8| Ibrahim I.A. et al. (1997): A brief Illustrated guide to understand Islam, Darussalam, Houston, Texas. USA 74P


মাসিক দাওয়াহ সবুজ গাছ আগুন আল্লাহ