ঈদুল ফিতরের আদ্যপান্ত

এমডি ডেস্ক




ওয়ালিদ আল হামিদী
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মাদীনা,
কিংডম অব সাউদি আরাবিয়া।

------------------------------------

ঈদ আরবী শব্দ। অর্থ হচ্ছে উৎসব। ফিতর মানে ভাঙ্গা। ঈদুল ফিতরের শাব্দিক যৌগিক অর্থ হচ্ছে ভাঙ্গার উৎসব। যেহেতু দীর্ঘ একমাস সিয়াম পালন করার পর ঈদের দিন থেকে পুনরায় একজন মুমীন দিনে খাবার গ্রহণ করে এবং এর মাধ্যমে তার দিনের উপবাস ভঙ্গ হয় তাই এই ঈদকে ঈদুল ফিতর বলা হয়।

মুমীন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় মাহে রামাদ্বান এ বছরের মত আমাদের নিকট থেকে বিদায় নেয়ার পথে। পবিত্র মাসের সমাপ্তি আর নতুন মাসের আগমনীতে রয়েছে মুমীনদের জন্য প্রভুর পক্ষ থেকে প্রদত্ত মহাখুশীর এক উপলক্ষ। এই উপলক্ষকে আমরা ঈদ বলি। 

আজ লিখনীর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে ঈদ আমরা কীভাবে পেলাম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঈদ কেমন ছিল? ঈদে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ কী কী? বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে ঈদ উদযাপন করবো?

♦️প্রথম আলোচ্য বিষয় আমরা ঈদ কীভাবে পেলাম?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করার পরবর্তী বছর অর্থাৎ হিজরী দ্বিতীয় বর্ষে রামাদ্বানে সিয়াম পালন করা ফরয হয়। [আল লু-লু ইল মাকনূন ফী সীরাতিন নাবিয়্যিল মা-মুন, ১/৩২২]

আনাস ইবনে মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরতের পর দেখলেন সেখানকার মানুষেরা বছরে দুইদিন আনন্দোল্লাস করে উৎসব করে হই হুল্লোড় করে উদযাপন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন জিজ্ঞেস করলেন এই দু'দিনের বিশেষত্ব কী? তখন‌ লোকজন বললেন আমরা জাহেলী যুগে এই দু'দিন খেলাধূলা করতাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- আল্লাহ তায়ালা এই দু'দিনকে পরিবর্তন করে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন তোমাদের আনন্দ করার জন্য দিয়েছেন, একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর আর অপরটি হচ্ছে ঈদুল আযহা। [আবু দাউদ, হাদিস নং ১১৩৪। নাসাঈ, হাদিস নং ১৫৫৬]

এভাবেই মুসলিম জাতি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে খুশীর উপলক্ষ হিসেবে দুটি দিন উপহার হিসেবে অর্জন করেন। এরপর থেকেই মুসলমানগণ ধারাবাহিক ভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

♦️দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয় হল- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঈদ কেমন ছিল? আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঈদ কেমন ছিল এ ব্যাপারে আলোচনা করলে আমাদের করণীয় কী সেটা পেয়ে যাবো। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদে যা করেছেন সেগুলো আমাদের করণীয়। তাহলে দুটি বিষয় একসাথে আলোচনা করা যাক-

ঈদ সংশ্লিষ্ট যত হাদীস রয়েছে সবগুলো হাদীস সামনে নিয়ে গবেষণা করলে ঈদুল ফিতরে করণীয় হিসেবে আমরা কয়েকটি কাজ পাই। 

১. ঈদুল ফিতরের প্রথম কাজ হচ্ছে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকাতুল ফিতর অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষম সবার উপর আবশ্যক করেছেন। [আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫০৯] সাদকাতুল ফিতর বিষয়ে নিম্নোক্ত লিংকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যারা আগ্রহী তারা পড়তে পারেন। https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=138829591119164&id=103702061298584

২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে সকালে দুরাকাত সালাত (যেটাকে আমরা ঈদের সালাত বলি) আদায় করতেন। আমাদের জন্য দ্বিতীয় করণীয় হচ্ছে আমরা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করবো। [আবু দাউদ, হাদিস নং ১১৪৯]

৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন গোসল করার কথা পাওয়া যায়।‌ তবে এ বিষয়টি হাদীসের যে বর্ণনা সূত্রে আমরা পেয়েছি সেটা খুবই দুর্বল। তবে সহীহ বর্ণনা সূত্রে পাওয়া যায় যে, ইবনে উমর রাঃ ঈদের দিনে সালাতে গমনের পূর্বে গোসল করতেন। 

৪. উত্তম পোশাক পরিধান করা। ঈদ উপলক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত ওমর রাঃ একটি রেশমী জুব্বা ক্রয় করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় টি রেশমের হওয়ায় ক্রয় করেননি। [বুখারী, হাদিস নং ৯৪৮]  তবে সাহাবায়ে কেরাম ঈদ উপলক্ষে নিজেদের সংগ্রহে থাকা উত্তম পোশাক পরিধান করার বর্ণনা পাওয়া যায়। [বায়হাক্বী]

৫. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গমনের পূর্বে কিছু খেয়ে তারপর যেতেন।‌ [ইবনে মাজাহ, হাদিস নং  ১৭৫৬] কী খেতেন ? এ প্রশ্নের উত্তরে ইবনে মাজাহ'র ১৭৫৪ নং হাদীসে আনাস ইবনে মালিক রাঃ বলেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর খেয়ে তারপর রওয়ানা হতেন। বুখারীর বর্ণনায় বেজোড় খেজুর খাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং আমরাও ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গমনের পূর্বে বেজোড় খেজুর খেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো।

৬. ঈদে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে গমন কালে পায়ে হেটে যাওয়া সুন্নাহ। [তিরমিযী হাদিস নং ৫৩০] আমরাও এরকম ভাবে যেতে সচেষ্ট হব ইনশাআল্লাহ।

৭. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যে পথ দিয়ে গমন করতেন আসার ক্ষেত্রে সে পথে না এসে অন্য পথে আসতেন। অর্থাৎ পথ পরিবর্তন করতেন। [বুখারী হাদিস নং ৯৮৬] এটি ঈদের একটি সুন্নাহ আমল আমাদের জন্য।

৮. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আদায় করতেন মাঠে। [বুখারী হাদিস নং ৯৮৬] মাঠ থেকেই ঈদগাহের যাত্রা শুরু। এভাবেই ঈদের সালাত আদায় করা সুন্নাহ।‌ তবে প্রয়োজনে মসজিদে আদায় করা যাবে। সমস্যা নেই। 

৯. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান ও ইক্বামাত ব্যতীত ঈদের সালাত আদায় করতেন। ঈদের সালাত আদায়ের পর মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করতেন। নসিহত করতেন।  [বুখারী হাদিস নং ৯৮৬]

১০. ঈদের সালাত আদায়ের আগে বা পড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত কোনো সালাত আদায় করতেন না। তবে একটি বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাসায় ফেরার পর দুই রাকাত সালাত আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। [ইবনে মাজাহ হাদিস নং ১২৯৩]

১১. ঈদের সালাত আদায়ের স্থানে যদি মহিলাদের সালাত আদায়ের ব্যবস্থা থাকে তবে তাদের নিয়ে যাওয়া উত্তম। তবে যদি ব্যবস্থা না থাকে এবং ফেতনার আশংকা থাকে তবে না নেয়া। মহিলাদের ঈদের সালাত আদায়ের জন্য সাথে নেয়ার কথা বুখারীর ৩২৪ ও মুসলিমের ৮৯০ নং হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।

১২. ঈদের দিন কোনো হালাল অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঐ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, আমার কাছে দু’টি বালিকা জাহিলিয়্যাত যুগে সংঘটিত বু’আস যুদ্ধের গান গাইছে। তিনি বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন। এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তিনি (এ দৃশ্য দেখে) আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকটে শাইত্বানের বাদ্য চলছে? (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দিকে ফিরে বললেন, হে আবূ বাক্‌র! এদের ছেড়ে দাও। এরপর তিনি যখন অন্যমনস্ক হলেন, আমি বালিকাদ্বয়কে আস্তে খোঁচা দিলাম। তারা বের হয়ে চলে গেল। 

এটা ঈদের দিনের ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা ঢাল-বল্লম দ্বারা রণকৌশল ও খেল-তামাশা করছিল। তখন হয়ত আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আবেদন করেছি না হয় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন তুমি কি তা দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম- জি হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তাঁর পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গণ্ডদেশ তাঁর গণ্ডদেশের উপর সংলগ্ন হলো। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী আরফিদাহ্‌! তোমরা তোমাদের খেলা চালিয়ে যাও। অনেকক্ষণ পর আমি যখন একটু বিরক্তবোধ করলাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হয়েছে তো? আমি বললাম, জ্বি হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও। [মুসলিম, হাদিস নং ১৯৫০]
  
১৩. বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এটা সুন্নাহ এমন কিছু নয়। ইবাদাত নয় বরং আমাদের জীবন ঘনিষ্ঠ কাজ হিসেবে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারি। কোনো সমস্যা নেই।

১৪. ঈদের ইবাদাত নয় তবে স্বাভাবিক ভাবে একে অন্যের সাথে মুসাফাহা করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- গাছে ধরে নাড়া দিলে গাছের শুকনো পাতা হড় হড় করে যেমন ঝরে পরে, মুসাফাহা করলে ঠিক একই ভাবে দুজনের গুনাহ ঝরে পড়ে। [তাবরানী, বাররায]

১৫. ঈদ সবার জন্য আনন্দের। যারা দরিদ্র তাদের প্রতি যেন আমরা নজর দেই। সাদকাতুল ফিতর আবশ্যক হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দরিদ্রদের আহার করানো।

১৬. তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করা সুন্নাহ। ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে ঈদের চাঁদ অর্থাৎ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে ঈদের সালাত আদায়ের স্থানে উপস্থিত হওয়ার পর ইমাম উপস্থিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করবো। নারীরা মনে মনে এবং পুরুষেরা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করে তাকবীর পাঠ করবেন। [বুখারী, হাদিস নং ৯৭১। দারে ক্বুতনী ২/৪৫]

♦️এবার তৃতীয় আলোচ্য বিষয় ঈদের দিনে বর্জনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে আলোকপাত করা যাক-

১.‌ জাহিলিয়াতের সংস্কৃতি থেকে বের করে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উত্তম খুশীর উপলক্ষ ঈদ দিয়েছেন। তাই ঈদের দিনে আমরা যেন‌ এমন কোনো কাজ না করি যা জাহেলী যুগের সাথে সম্পৃক্ত। বেপর্দা চলাফেরা বা গান বাজনা করা এগুলো জাহিলী সমাজের অংশ।

২. কোনো হারাম কাজে জড়াবো না। কোনো প্রকার খারাপ কাজে জড়াবো না।

৩. আয়োজন করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অধিক প্রেসার যেন না দেই। 

৪. ঈদের খুশীতে আত্মহারা হয়ে ইবাদাত সমূহ থেকে যেন গাফেল না হই।

৫. ঈদের সালাতের তাকবীর নিয়ে মতানৈক্য এবং ফেতনা যেন না করি। ঈদের সালাতে কয়টি তাকবীর দেয়া হবে এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রায় দশটি মত রয়েছে। যেখানে যে মত অনুযায়ী সালাত আদায় হয় সেখানে সে অনুযায়ী সালাত আদায় করা উচিৎ।

♦️এবার আমরা আলোকপাত করার চেষ্টা করব চতুর্থ আলোচ্য বিষয় বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আমরা ঈদ উদযাপন কীভাবে করতে পারি?

ঈদের দিন করণীয় যে সমস্ত কাজের কথা আমরা উল্লেখ করেছিলাম সবগুলো হয়তো এবার চাইলেও করা যাবে না। কারণ করোনা‌ কভিড১৯ আমাদেরকে অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত করে দিয়েছে। আমাদের নিজেদের পরিবারের বা সমাজের ক্ষতি হতে পারে এমন কোনো কাজ আমরা করবো না। 

বাংলাদেশে যেহেতু মসজিদ ঈদের সালাত আদায় করার অনুমতি আছে সেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করতে পারেন।‌ বহির্বিশ্বের যেখানে ঈদের সালাত আদায় করার অনুমতি নেই সেখানে নিজেদের ঘরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করতে পারেন। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের ফতোয়া এটা। দারুল উলূম দেওবন্দও এই ফাতওয়া দিয়েছেন।

হযরত আনাস রাঃ একদা ঈদের সালাতের জামাত না পেয়ে নিজের ঘরে পরিবারের সদস্য ও গোলামদের নিয়ে জামাতে ঈদের সালাত আদায় করেছেন।‌ তবে তিনি খুতবা দেননি।[আসারুস সুনান পৃ. ২২৭। বুখারীর সনদে বর্ণিত হাদীস নং ৯৭৬] তাই ঘরে ঈদের সালাত আদায় করলে খুতবা দেবেন না। 

আর যদি একাকী থাকেন তবে ঈদের সালাত আদায় না করার পক্ষে স্কুল অব হানাফী থটের মত। ইবনে তাইমিয়া র. ও ইবনে উসাইমিন র. এ মত গ্রহণ করেছেন [শারহু মুমতী ৫/১৫৬]। ঈদের সালাত ছুটে গেলে ইবনে মাসউদ রাঃ এর বর্ণনা সূত্রে কিছু ফুক্বাহায়ে কেরাম চার রাকাত নফল সালাত আদায় করার কথাও বলেছেন।

মূল কথা হচ্ছে এগুলো কিয়াসী মাসআলা। এতে স্কলারদের মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি ঈদের সালাত সুযোগ থাকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরের বাহিরে জামাতের সাথে আদায় করবেন। না হলে ঘরে জামায়াতের সাথে আদায় করবেন। সেটা সম্ভব না হলে চার রাকাত নফল সালাত পড়তে পারেন। ওযরের কারণে কিছুই না পারলে আশাকরি আল্লাহ তায়ালা এরজন্য পাকড়াও করবেন না।

♦️শেষকথা হল- খুব কঠিন এক সময়ে আছি আমরা, কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। মুসলিম উম্নাহ,র সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আমাদের দুয়ারে উপস্থিত। বর্তমান প্রেক্ষাপটের কারণে এবার আমরা সবচেয়ে বেশী সতর্কতা অবলম্বন করে ঈদ উদযাপন করবো ইনশাআল্লাহ। 

একে অন্যের সাথে হয়তো সরাসরি সাক্ষাৎ হবে না, তবে আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে অন্যের সাথে যুক্ত হব। আল্লাহ কাছে একটি সুস্থ সুন্দর পৃথিবী প্রার্থনা করবো। আরো বেশী মানবিক হব। সঠিক পথে চলার প্রতিজ্ঞা করবো।  বিপদে মানুষের পাশে দাড়াবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর থেকে দ্রুত এ মহামারী উঠিয়ে নিন, আমাদের সবাইকে সুস্থতার সহিত নেক হায়াত দান করুন।  সবাইকে ঈদ এর অগ্রিম শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

 


মাসিক দাওয়াহ ঈদ ঈদুল ফিতর ইদ