নারীদের শিক্ষা বন্ধে নয়, চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করুন

আকিলা ইবনাত




নারীদের শিক্ষা বন্ধে নয়, চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করুন

আকিলা ইবনাত

আলিম ২য় বর্ষ, আইডিয়াল গার্লস মাদ্রাসা

-----------

প্রিয় পাঠক নিশ্চয় শিরোনাম পড়ে আপনি চিন্তা করছেন নারী শিক্ষার  এই অগ্রগতির যুগেও কেন একথা ।সত্যি বলতে কী নারী শিক্ষার এই অগ্রগতির যুগে এসেও আমাদের সমাজের অনেক মেয়েদের নানান উসিলায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।অথচ আমাদের সমাজে অনেক ইসলামী প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে যেখানে পর্দার ক্ষেত্রেপুরোপুরি সচেতনতা অবলম্বনের চেষ্টা করা হয়।তবুও এটাওটা যেকোন একটা খুতে মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।আমি বলছি না ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো  সম্পূর্ণ সমস্যামুক্ত ।কিন্তু তাই বলে মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ করে দিবে এটাও তো হতে পারে না ।এর জন্য বিষয়টি নজরে এনে আলেম সমাজকে আরো সচেতনতার সাথে কাজ করতে হবে ।আমাদের ভাবা উচিত মেয়েরা সমাজের অর্ধাঙ্গ ।একটি সুন্দর সমাজ গঠনে একজন শিক্ষিত নারীর অবদান মূখ্য ।পিতার ক্ষেত্র হলে মনে করা হয় মেয়ে  একটু বড়ো হয়েছে এখন বিয়ে দিতে হবে ।কারণ এটা আমার দায়িত্ব ।ভাবখানা এমন যেন মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলেই বাচি।হ্যাঁ,আমি মানি মেয়ে বিয়ে দেওয়া আপনার দায়িত্ব ।কিন্তু মেয়েকে পড়ালেখা করানো যে আপনার দায়িত্ব এটা এড়িয়ে যান  কিভাবে? মেয়ে যতদিন আপনার নিকট আছে ততদিন আপনাকে পড়ালেখা করাতে হবে।আর তার জন্য এমন একজন পাত্র বেছে নিন যাতে তার পড়ালেখার স্বপ্ন ভেঙে না যায়।আর স্বামীর ক্ষেত্র হলে ভাবা হয়, বিয়ের পর আর কি পড়ালেখা? পড়ালেখা করে আর কিইবা হতে পারবে? তারচে বরং ঘরসংসার করুকগে ।অথচ সে যদি আপনার সংসার সামলিয়ে পড়তে চাই আপনার উচিত তাকে পড়তে দেয়া ।অল্প কিছু দিন আগে আমার একবোনের বিয়ে হয়েছিল ।সে পড়ালেখায় খুব ভাল ছিল ।দাখিল পরীক্ষার দুমাস আগে তার পিতা পাত্র ঠিক করে বিয়ে দিয়ে দিলেন ।সেও ছেলেটিকে পড়ালেখার শর্ত দিয়ে বিয়েতে রাজি হয়েছিল ।কিন্ত        দুঃখের বিষয় বিয়ের পর বহু কষ্টে সে দাখিল পরীক্ষা দিলেও তাকে আর পড়ালেখার সুযোগ দেয়া হয়নি ।এটি কী হচেছ আজ একটি মেয়ের বেলায় ।আমাদের পাশে লুকিয়ে আছে এমনি অনেক বোন যারা বুকে লালন করত পড়ালেখার অদম্য ইচ্ছা ।নিজের জীবনকে জ্ঞানের আলোয় সাজানোর চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকত যাদের মন।আর এমন একটি বোন পড়ালেখা থেকে ছিটকে যাওয়ার মানে জ্ঞানের গোলাপ তার পাপড়ি মেলে শুভ্রতা ছড়ানোর আগেই ঝরে পড়া।সমাজকে আলোকিত করার এক উদীয়মান প্রদীপ নিভে যাওয়া।তেমনি ভাবেই আরো বুঝিয়ে বললে বলা যায়, একজন স্বামী তার জীবন চলার পথের ঘনিষ্ঠ  এক জ্ঞানী পরামর্শক হারাবে।একজন সন্তান যার সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড়ো অবদান যিনি রাখেন এমনি একজন শিক্ষিত মা হারাবে ।প্রিয় পাঠক আপনার স্থান হতে চিন্তা করে দেখুন, তা নয় কি? তাছাড়া আপনি  অনেক সংসারে দেখতে পাবেন যে স্বামী উচচ ডিগ্রিধারী কিন্তু স্ত্রী অল্প শিক্ষিত ।এতে একজনের চিন্তার সাথে অন্যের চিন্তার মিল হয়না ।একজনের মানসিকতার সাথে  অন্যের মানসিকতার মিল থাকে না ।এমনকি স্বামী পারিবারিক কোন বিষয়ে তার স্ত্রীকে পরামর্শ নেওয়ার যোগ্য ও মনে করেনা ।স্ত্রী নিজেকে তাই ছোট মনে করে অপমানবোধ করে।ফলে সংসার নামক শব্দের পাশে এসে যুক্ত হয় অশান্তি নামক শব্দটি ।অতএব আপনারা চিন্তা করুন একজন মহিলার শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূণ।আপনারা পুরুষরাই যদি নারীদের  পড়ালেখায় এগিয়ে যেতে সাহায্য না করেন তাহলে একজন নারীর ক্ষেত্রে পুরুষদের চোখ রাঙানো কে মাড়িয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় ।তাই আপনাদের বলছি একজন পিতা হয়ে কন্যার জন্য, একজন স্বামী হয়ে স্ত্রীর জন্য ও একজন ভাই হিসেবে বোনের জন্য পর্দার বিধান সহকারে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করুন আমাদের সমাজে চোখ বুলালে আপনি অনেক প্রতিষ্ঠান খুজে পাবেন যারা মেয়েদের যথাসম্ভব পর্দার ব্যবস্থা রক্ষায় সচেষ্ট। দয়া করে তাদের পড়ালেখা বন্ধ করে দিবেন না ।বরং তাদের পড়ালেখায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করুন ।কেননা একজন শিক্ষিত ও রুচিশীল মেয়েই পারে সমাজকে বদলে দিতে।বেগম রোকেয়ার ভাষায় গাড়ির পেছনের চাকা বন্ধ হলে যেমন সামনের চাকা অচল হয়ে পড়ে ঠিক তেমনি ভাবে সমাজের পুরুষ শ্রেণীরা শিক্ষিত হলেও নারীরা অশিক্ষিত থেকে যায় তাহলে সমাজ কখনো এগিয়ে যাবেনা বরং অচল গাড়ির ন্যায় তা থেমে থাকবে চিরকাল ।


মাসিক দাওয়াহ