নারী জীবনে স্বামী শ্রেষ্ঠ নি‘য়ামাত



আতাউর রহমান নাদভী




নারী জীবনে স্বামী শ্রেষ্ঠ নি‘য়ামাত

আতাউর রাহমান নাদভী

---------------------------

একজন নারী তার বিয়ের বিশ বছর পর পুরুষ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বললেন, আমার দৃষ্টিতে পুরুষ আল্লাহ্র সবচেয়ে সুন্দর এবং অতুলনীয় একটি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। নারী জীবনে স্বামী একটি শ্রেষ্ঠ আসমানী নি‘য়ামাত। অতএব এই নি‘য়ামাতের মূল্যায়ন করা উচিৎ। কারণ তিনি তার জীবন ও যৌবন নিজ স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা বিসর্জন দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেন। নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ উজ্জল বানানোর লক্ষ্যে এবং স্ত্রীর মুখে এক লোকমা ভাত ও পরনে এক টুকরো কাপড় তুলে দেয়ার জন্য নিজের আয়েশ-আরাম হারাম করে ফেলেন। নিজের পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা রেখে না খেয়ে অফিসে দেয়া নাস্তার প্যাকেটটি বাসায় এনে স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। স্ত্রী যখন সেটি খেতে থাকেন আর তিনি তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। সন্তান জন্মের পর তার উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। অথচ এমন বিসর্জনের বিনিময়ে অনেক স্বামী তার স্ত্রীর কাছে থেকে শুধু অবাধ্যতাই পেয়ে থাকেন। এমন পুরুষটি যদি কখনো Refreshment এর জন্য ঘরের বাইরে যায় তখন বলা হয়, সে বে-পরওয়া। ঘরে থাকলে বলে অলস। সন্তানদেরকে শাসন করলে সবার চোখে সে হয়ে যায় বদ-মেযাজ। স্ত্রীকে চাকরি করতে না দিলে বলা হয় অহংকারী এবং ভাব দেখায়। আরো কত ভাবে পরিবার ও সমাজে তার দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে। মায়ের ভালোবাসায় ডুবে থাকলে মায়ের দুলাল বলে ডাকে। স্ত্রীকে ভালোবাসলে স্ত্রীর মুরীদ বা বউ পাগল বলে সবাই অট্টহাসি দেয়। শ্বশুর-শাশুড়িকে গুরুত্ব দিলে এবং জ্বী হুযুরী করলে ছেলে হয়ে যায় নাফরমান। আর মেয়ের জামাই করলে ভালো জামাই। ছেলে করলে বিষ আর মেয়ের জামাই করলে মধু। আমি মনে করি এমন মায়েরাই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়।

তাই যে সব মায়েদের কারণে মেয়েদের সংসার ভাঙছে তাদেরকে বলছি, আশা করি বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন। একবার এক বিয়েতে একঢোল ওয়ালা ঢোল পেটাচ্ছিলো। তবে তার সেই ঢোলের দুই দিকেই দুই সুন্দরী নারীর ছবি লাগানো ছিলো। এটি দেখে এক ব্যক্তি কৌতুহল বশতঃ তার কাছে গিয়ে কানে কানে বললো, ভাই আপনি তো দেখি সুন্দরের খুব পুজারী। লোকটি উত্তরে বললো, ভাই বিষয়টি এমন নয়। এখানে যে দুই নারীর ছবি দেখছেন তাদের একজন আমার শাশুড়ি আর অন্যটি আপনি বুঝে নিয়েন। বাসায় এমন করার সুযোগ কোথায়? তাই এভাবে ঢোলের উপর তাদের ছবি লাগিয়ে মনের দুঃখ মেটাচ্ছি। আমি অশিক্ষিত মানুষদেরকে নিজের স্ত্রীকে রাণীর আসনে বসাতে দেখেছি। উচ্চ শিক্ষত লোকদেরকে স্ত্রীকে মারতে এবং শুধু দিনে-দুপুরে নয়, রাতের অন্ধকারেও একা একা এক কাপড়ে ঘর হতে বের করে দিতে দেখেছি। এটি দেখে যা বুঝলাম শিক্ষা মানুষকে কখনো বিচক্ষণতা দেয় না। বিচক্ষণতা পারিবারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আমাদের এমন দাবী অবিশ্বাস্য  মনে হলে সমাজের শুধু নীচ তলার দিকে নয়, উপর তলার হুআদের জীবনের দিকে তাকিয়ে দেখুন পরিষ্কার দেখতে পারবেন। তারা ত্রিশ বছর সংসার করার পরও তিন চারটি সন্তানের মাকে সন্তানসহ ঘর হতে বের করে দিয়েছে। তবে যারা ভদ্রলোক তাদেরকে যা কিছুই বলা হোক না কেন, আমার দৃষ্টিতে পুরুষ দুন্ইয়ার এমন এক হাস্তি, যে নিজের সন্তানদেরকে নিজের চেয়ে উন্নত দেখতে চায়। নিজের কাপড়ের চেয়ে নিজের স্ত্রীর পরনের কাপড় মান সম্মত ও সুন্দর দেখতে চায়। বাবা এমন এক ব্যক্তি যে সন্তানদের আচরণে নিরাশ হওয়ার পরও তাদেরকে অকৃত্রিম ভালোবাসে। রাতের অন্ধকারে গোপনে আল্লাহ্র কাছে তাদের উন্নতির জন্য দো‘য়া করে। স্ত্রীর বকাঝকার পরও তার কথা মতই বাজার করে নিয়ে আসে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অপরিচিত দুই জন মানুষের মাধ্যমে শুরু হয়। কিন্তু এই দুই জন মৃত্যু পর্যন্ত একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। হয়ত এই জন্যই কোনো এক মনীষী বলেছেন: 
Marriage is a workshop, where husband works and wife shops.
স্বামী-স্ত্রীকে বলবো মনে রাখবেন, ভালোবাসা নারী-পুরুষ উভয়ের স্বভাবের অংশ। তবে একে অপরকে নয় তাদের এই ভালোবাসা অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত। তাহলে এই ভালোবাসা কার সাথে? এটি একটি জটিল প্রশ্ন! এমন প্রশ্নে উত্তরে আমি বলবো তারা উভয়ে উভয়ের প্রয়োজনের সাথে ভালোবাসা রাখে। অর্থাৎ সম্পর্ক যদি প্রয়োজনের খাতিরে হয়, তাহলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আর যদি চারিত্রিক আকর্ষণ ও নৈতিকতার সৌন্দর্যের কারণে হয়, তাহলে এখানে কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হয় না। অতএব যে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বিতীয়টির অবস্থান যত বেশী দৃঢ় তাদের সম্পর্কও ততবেশী গভীর। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কোনো কোনো প্রয়োজন নারী-পুরুষের যৌথ প্রয়োজন। যেমন একে অপরের কাছে গেয়ে শারীরিক উত্তেজনা নিরসনের প্রয়োজন অনুভব করে। নিজেদের জৈব চাহিদা পূরণের জন্য একে অপরকে কাছে পেতে চায়। কিন্তু যখনই নিজের ব্যক্তিত্ব বা বংশ মর্যাদাসহ গর্ব অহংকারের বিষয় চলে আসে উভয়ের মাঝে তখনই দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আর তাই নারী-পুরুষের মাঝে জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত কে কার চেয়ে বড়, কার বংশ উত্তম ও অধম এই নিয়ে ঝগড়া লেগেই আছে। অর্থাৎ ‘মরা হাতি লাখ টাকা’ বলে যেমন মানুষ তর্কে লিপ্ত হয় এখানেও তাই হয়। আমি এমনও অনেক দম্পতি দেখেছি এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। যারা একে অপরের প্রেমে সারাক্ষণ ডুবে থাকে তাদের মাঝেও কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব বিরাজ করে। পুরুষের যুক্তির কিছুটা সত্যতা থাকলেও এটি নারী মানতে চায় না। স্বামী মেনে  নেয়। কারণ স্বামী নারী জীবনে এমন এক মা‘সুম মাখলুকের নাম যিনি স্ত্রীর চোখের অশ্রুর সামনে মোমের মত গলে গিয়ে স্ত্রীর সেই কথাটিই মেনে নেয় যে কথার কারণে নিজেদের মাঝে ঝগড়ার সুত্রপাত ঘটেছে।
একটি কথা বুঝতে হবে যে, আল্লাহ্ পুরুষকে এমন কিছু গুণ দিয়েছেন যা নারীকে দেন নি। আর যা নারীর মধ্যে রেখেছেন তা পুরুষের স্বভাব বরোধী করে রেখেছেন। যেমন আল্লাহ্ পুরুষের স্বভাবের মধ্যে পরিশ্রম করার যোগ্যতা রেখেছেন। অর্থ উপার্জনের মানসিকতা রেখেছেন। নারীর জন্য নিজের জীবন বিসর্জনের সাহসিকতাও রেখেছেন। অন্যদিকে আল্লাহ্ নারীকে সন্তান গর্ভে ধারণের ক্ষমতা এবং তাকে জন্ম দেয়ার যোগ্যতা দিয়ে মানব সমাজে একটি শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দান করেছেন। যে নারীর পায়ের নীচে স্যান্ডেল ছিলো না সেই নারী সন্তান জন্ম দেয়ার সাথে সাথে তার পায়ের নীচে এনে জান্নাত রেখে দিয়ে অকল্পনীয় এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। আর এই একটি যোগ্যতাই পুরুষের উপরে নারী তার শ্রেষ্ঠত্বের দাবী করে। এটিই পুরুষের সামনে নারীকে উচ্চাবাচ্য করার সাহস যোগায়। তবে এটিও সত্য যে, নারী তার সকল যোগ্যতার পরও একটি চাহিদা মেটানোর জন্যই পুরুষের দ্বারস্থ হয়। তার সেই চাহিদার নাম হলো প্রয়োজন। মানব সমাজে তার পরিচয়ের প্রয়োজন আছে। আশ্রয়ের প্রয়োজন আছে। ঠিকানার দরকার আছে। পুরো জীবনের ঝড়-তুফানের হাত হতে বাঁচার জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে একটি ছাদের দরকার আছে। এই প্রয়োজন পুরুষ ছাড়া কখনো সম্ভব নয় বলে দুন্ইয়ায় আগমনের সাথে সাথে একজন নারীর সাথে গভীর এক ভালোবাসার জন্ম নেয় বলেই নারী সকল যুল্ম অত্যাচার সহ্য করে স্বামীর আঙিনায় থেকে যায়। নারীর ভালোবাসার সাথে পুরুষের ভালোবাসার এখানে তফাৎ। পুরুষের মাঝে এমন প্রয়োজন কখনো জন্ম নেয় না। আর নেয় না বলেই পুরুষ যখন তখন নারীকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। পুরুষ নিজেকে উত্তম মনে করার আরো একটি Strong evidence হলো সে জন্ম হতে শুনে আসছে যে, পুরুষের পাঁজরের হাড্ডি হতে নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স.) নারী চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:

(عن أبي هريرةَ   قَالَ: قالَ رسول ُ اللَّه  : إنَّ المرأةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ، لَنْ تَسْتَـقِيْمَ لَكَ عَلَى طَرِيْـقَةٍ، فَإنِ استَمْتَعَتَ بـِهَا استَمْـتَعْتَ وَبـِهَا عِوَجٌ، وَإنْ ذَهَبْتَ تُقِـيْمُهَا كَسَرْتَها، وَكَسْرُهَا طَلاَقُها) 

‘নারীকে পাজরের বাঁকা হাঁড় হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই সে কোনো ভাবেই তোমার জন্য সোজা থাকতে পারবে না। অতএব স্ত্রী হিসেবে যদি তাকে পেতে চাও তাহলে তার এই বাঁকা স্বভাব মেনে নিয়েই তাকে গ্রহণ করতে হবে। যদি তাকে সোজা করতে চাও তাহলে তুমি তা ভেঙ্গে ফেলবে। এই ভাঙ্গার পরিণতি হবে ত্বালাক্ব’(সহিহুল বুখারী, হাদিস নং-১৪৬৬)।

উপরোক্ত হাদীসকে দলীল বানিয়ে উত্তম আর অধম নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সব সময় উচ্চবাচ্য চলতেই থাকে। এখানে বিষয়টি না বোঝার কারণে একে অপরকে বড় বা ছোট মনে করার সুযোগের সত্যতা রয়েছে বলে তারা মনে করে। তাই কোনো কোনো পরিবারে পুরুষ সব সময় নিজেকে শুধু শ্রেষ্ঠ মনে করছে না; বরং দ্বীন-ধর্মের ভয় থাকায় নিজেকে ¯্রষ্টা দাবী না করলেও কিন্তু তার চেয়ে নিজেকে কমও মনে করে না। এই কারণে নারী কখনো মাথা উঁচু করে স্বামীর সামনে উচ্চবাচ্য করতে পারে না। অথচ বিষয়টি এমন নয়; বরং নারীর সাথে ভাল ব্যবহার করার জন্যই এটি বলা হয়েছে। রাসূল (স.) এটি বলে আল্লাহ্ নারীর মধ্যে অনেক দূর্বলতা রেখেছেন বলে পুরুষদেরকে বোঝাতে চেয়েছেন। তা হলো নারী একটি পাখির মত। কঠোর হাতে চেপে ধরলে মরে যাবে আর নরম হাতে ধরলে উড়ে যাবে। পুরুষ বুঝলো উল্টোটা। নারীকে পাজরের বাঁকা হাঁড় হতে সৃষ্টির যে রহস্য আমি বুঝতে পেরেছি, তাহলো নারীকে মাথা হতে সৃষ্টি করা হলে পুরুষ হয়ত তাকে মাথায় তুলে নিতো। আর পা হতে সৃষ্টি করা হলে তাকে পায়ের জুতার মতো ব্যবহার করতো। বা তার সাথে আরো নিকৃষ্ট আচরণ করতো। আল্লাহ নারীকে পাজরের হাঁড় হতে সৃষ্টি করেছেন যেন নারী একজন পুরুষের স্ত্রী হয়ে তার অন্তরের কাছে স্থান পায়। দাম্পত্য জীবন যেন স্বামীর সাথে মায়া ও মমতা, প্রেম ও ভালোবাসার মধ্যে কাটিয়ে দিতে পারে। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে:
True love doesn’t consist of holding hands, it consists of holding hearts together.
তবে নারীর আরেকটি দুর্বলতা হলো নারী তার স্বামীর সংসারে একটু অভাব দেখলে খুব সহজেই অতীতের আয়েশ আরাম ও প্রাচুর্যের কথা ভুলে যায়। এটিও তার একটি প্রকাশ্য ও দুর্বল স্বভাব। একারণে অনেক সময় দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হওয়াটাকে পারিবারিক জীবনের স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে স্বামীকে মনে করতে হবে। অর্থাৎ প্রেম-ভালোবাসার সাথে অর্থ সম্পদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি চরম সত্যকে ভুলে গেলে চলবে না। এই বাস্তব সত্যটিকে আমরা হাদীসের মধ্যে দেখতে পাই। রাসূল (স.) জাহান্নামের অবস্থা বলতে গিয়ে নারীদের সম্পর্কে বলেছেন: 
(عن ابن عباس رَأيْتُ النَّارَ فَإذَا أكْثَرُ أهْلِهَا النِّسَاءُ يَكْفُرْنَ، قِيْلَ: أيَكْفُرْنَ بِاللهِ ؟ قَالَ: يَكْفُرْنَ العَشِيْرَ، وَيَكْفُرْنَ الإحْسَانَ، لَوْ أحْسَنْتَ إلىَ إحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُـمَّ رَأتْ مِنْكَ شَيْئاً قَالَتْ: مَا رَأيْتُ مِنْكَ خَيْراً قَطُّ).
‘আমি জাহান্নাম দেখলাম সেখানে অধিবাসীদের অধিকাংশ নারী, কারণ তারা অকৃতজ্ঞ। তারা কি আল্লাহ্র অকতৃজ্ঞ ? জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তর দিলেন ঃ না, তারা তাদের স্বামীদের অকৃতজ্ঞ এবং তাদের দয়া-অনুগ্রহ ভুলে যে’ত। তুমি যদি সারা জীবন একজন নারীর সাথে দয়া ও অনুগ্রহ দেখাতে থাকো আর কখনো যদি তোমার কাছে একটু খারাপ কিছু দেখে, তাহলে সাথে সাথে বলে উঠবে তোমার সংসারে তো কোনো দিন ভাল কিছুই দেখলাম না’ (সহিহুল বুখারী, হাদিস নং-২৯)।
হয়ত একারণেই প্রত্যেক মেয়েকে বলতে শোনা যায় আমার স্বপ্নের রাজ কুমার আমাকে নিতে আসবে। তাকে নিয়েই আমার সুখের সংসার হবে। তার রাজ্যের রাণী হ’ব আমি। তার কল্পনায় অর্থ-কড়ি ঘুর পাক খেতে থাকে। তাদের আগামী দিনের স্বপ্ন শুধু রাজ কুমারকে নিয়ে কেন? ভেবে দেখছেন কি? এযাবৎ কোনো মেয়েকে তো বলতে শোনা যায়নি যে, আমাকে আমার স্বপ্নের মুচি নিতে আসবে। অতএব নারীর এসব মানসিক দুর্বলতার কারণেই তার সাথে পুরুষদের নরম ব্যবহার করতে হবে। 

 


মাসিক দাওয়াহ নারী স্বামী husband wife নারী জীবন